বর্তমান কমিটির পক্ষে ও বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি সামাবেশকে কেন্দ্র করে আবারও অস্থির হয়ে উঠছে জাতীয় প্রেস ক্লাব।
প্রেস ক্লাবের নিচতলায় বর্তমান কমিটির পক্ষে এবং ভবনের সামনে আগের কমিটির পক্ষের সাংবাদিকদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
শনিবার সকাল থেকে সদস্য পদ লাভ থেকে বঞ্চিতরা সদস্যপদ চেয়ে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকদের ব্যানারে সমাবেশ করে সরকার সমর্থিতরা। ভবনের সামনে ইউনিয়ন অফিস বন্ধের পাঁয়তারা বিরুদ্ধে সমাবেশ করে ডিইউজের সভাপতি কবি আব্দুল সিকদারের নেতৃত্বে ইউনিয়নের সদস্যবৃন্ধ।
সদস্যপদ চেয়ে সাংবাদিকদের সমাবেশে ঢাকা সাব এডিটর কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি অবাক হয়ে যাই, প্রেসক্লাবে কীভাবে এখনও স্বাধীনতা বিরোধীরা স্লোগান দেয়? জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে রাজাকার-আলবদরদের উৎখাত করতে হবে।’
এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের আগের কমিটিকে লুটপাটকারী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই লুটপাটকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’
প্রেসক্লাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন এবং সকল সাংবাদিকদের সদস্যপদের দাবি জানান আবুল কালাম আজাদ।
এই অংশের সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, সদস্যপদ চেয়ে সাংবাদিকদের সমাবেশে ঢাকা সাব এডিটর কাউন্সিলের সভাপতি নাসিমা আক্তার সোমা, ঢাকা সাংবাদিক উইনিয়নের সদস্য অমীয় ঘটক পুলক প্রমুখ।
বক্তব্যের ফাঁকে তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘জামাত-শিবির-রাজাকার এই মূহুর্তে বাংলা ছাড়’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে থাকে।
একই সময় বাইরে অবস্থানরত সরকার বিরোধী সাংবাদিকরাও ‘স্বাধীনতার শত্রুরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘দখলদার হটা, প্রেসক্লাব বাঁচা’ প্রভৃতি স্লোগান দিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ইউনিয়ন অফিস বন্ধের পাঁয়তারা বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশের ব্যনারে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ার পার্সনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী সমন্বয়ক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, কবি আব্দুল হাই শিকদার প্রমুখ।
এ সময় রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘অবৈধভাবে দখলদাররা প্রেস ক্লাবকে দখল করতে চাইছে। তারা আজ সদস্যপদের নাম করে প্রেসক্লাবের নিচে সমাবেশ করছে, যেখানে আমরা সমাবেশ করতাম। কিন্তু কোন ভাবেই প্রেস ক্লাবকে দখলমুক্ত করার এ আন্দোলনকে বন্ধ করতে পারবে না।’
যে কোন মূল্যে নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক কমিটি গঠন করে প্রেসক্লাবের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানান তিনি।
এমএ





