ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া ও সংখ্যালঘু নির্যাতনে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে ঢাকা এবং কুড়িগ্রামে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। মামলা দু’টিতে একইদিনে তাকে আদালতে উপস্থিতির আদেশ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) বাদী অ্যাডভোকেট গিয়াসউদ্দিনের দায়ের করা ৯৭৪/২০১৪ নং মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানকে আগামী ৯ নভেম্বর স্ব-শরীরে উপস্থিত হওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

এ মামলায় ইসলাম ধর্মের অবমাননা, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সংখ্যালঘু নির্যাতনে উস্কানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইসলাম ধর্মের অবমাননা, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সংখ্যালঘু নির্যাতনে উস্কানি ও দেশের সাধারণ নির্বাচনকে ব্যঙ্গ করার অভিযোগে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও একই পত্রিকার ফটো সাংবাদিক মজিদ খানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার মামলা করেছেন বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন।

মামলাটির শুনানি শেষে বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম সরকার বিবাদীদের আগামী ৯ নভেম্বর স্ব-শরীরে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট সাখওয়াত হোসেন জানান, ২০০৭ সালে প্রথম আলোর ‘আলপিন’ এ মহানবীকে (সা.) নিয়ে ব্যঙ্গ কার্টুন প্রকাশ, ২০১৩ সালের ১১ মার্চ ‘রস আলোতে’ পবিত্র কোরআনের সূরা লোকমানের ২৭ আয়াতের বিকৃতি ও মহানবী সম্পর্কে কটূক্তি করা এবং সম্প্রতি নির্বাচনের সময় (চলতি বছর গত ৬ জানুয়ারি) প্রথম আলোতে নারী ভোটারদের সিঁদুর পরিয়ে সাজানো ছবি প্রকাশ করায় এ মামলা দায়ের করা হয়। এ পত্রিকার বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেশের সাধারণ নির্বাচনকেও ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

বাদী পক্ষে মামলার শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান।

পুরনো এই ইস্যুগুলোতে এখন কেন মামলা জানতে চাইলে বাদী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি বিষয়গুলো সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। কিন্তু তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে জ্ঞাত ছিলাম না। বুধবার সেগুলো হাতে পেয়েই বৃহস্পতিবার নাগরিক হিসেবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

কেএইচ