আজ ৩ মে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। একইসাথে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্ষতিগ্রস্ত ও জীবন দানকারী সাংবাদিকদের স্মরণ এবং তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হচ্ছে। এ বছর দিবসটির জন্য জাতিসংঘ প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করেছে 'মিডিয়া ফ্রিডম ফর এ বেটার ফিউচার' অর্থাৎ ‘উন্নত ভবিষ্যতের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা'।
গণতন্ত্র আর গণমাধ্যম একটি আরেকটির পরিপূরক। যেখানে গণমাধ্যম যতবেশি শক্তিশালী সেখানে গণতন্ত্রও ততবেশি শক্তিশালী। পরমত সহিষ্ণুতাই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় কথা। আলোচনা, মতপ্রকাশ, ঐক্য, সংহতি হলো গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ সিঁড়ি। অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা গণতন্ত্রের একটি পূর্ব শর্ত। মৌলিক অধিকার হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেই সমাজ কিংবা রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র কল্পনাও করা যায় না। পৃথিবীর সব সভ্য সমাজ বা রাষ্ট্রে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে।
পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির দিক থেকে লিঙ্গ সমতা, যুব প্রবৃত্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায়, সাংবাদিকতা সার্বিক উন্নয়নের জন্য পৃথিবীব্যাপী বিস্তীর্ন সীমা জুড়ে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। সাংবাদিকদের নীতি ও কর্ম নিরীক্ষন, তদন্ত ও সমালোচনার স্বাধীনতা থাকলেই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।
এ লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ মোতাবেক জাতিসংঘ ১৯৯৩ সাল থেকে 'বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস' পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সাল থেকে ‘৩ মে’ পালিত হয়ে আসছে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’। ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহকে অনুষ্ঠিত ‘ডিক্লারেশন অন প্রমোটিং ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যান্ড প্লুরালিস্টিক মিডিয়া’ শীর্ষক সেমিনারের উপর ভিত্তি করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে এ দিবসটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল্য লক্ষ্য ছিল-বিশ্বব্যাপী স্বাধীন, অবাধ ও বহুমাত্রিক শক্তিশালী গণমাধ্যম ও তথ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রের অগ্রগতি ও সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা।
একটি উন্নত ভবিষ্যতের জন্য এই মিডিয়া ফ্রিডম ঘোষিত হয় এবং তখন থেকে বিশ্বব্যাপী এই বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসটি যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস- সাংবাদিকদের আত্মোপলব্ধি ও পেশাগত দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে সোচ্চার হওয়ার দিন। প্রতি বছর এ দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে মানবাধিকারের বৈশ্বিক সনদের ১৯ ধারা কর্তৃক সংরক্ষিত মৌলিক মানবাধিকারের আওতায় মত প্রকাশের ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্বকে আরো জোরদার করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
'ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’র বাংলা প্রতিশব্দ বিশ্বমুক্ত গণমাধ্যম দিবস। বাংলাদেশের গণমাধ্যম সে অর্থে মোটেও মুক্ত নয়। এখানে সদা আতঙ্ক। ইচ্ছে হলেই কোন তথ্য প্রকাশের সুযোগ নেই। অনেকে মনে করছেন, গণমাধ্যম এখানে বন্দী। বলা যায়, একটি নির্যাতিত গণমাধ্যমের সাথে আমাদের বসবাস। যেখানে একজন সাংবাদিক হত্যারও বিচার হয়নি। কেন হয়নি? সেটাই আজ এক বড় প্রশ্ন।
গণতন্ত্রিক সমাজে নগ্নভাবে, কুরুচিপূর্ণ ভাষায় পরস্পরের বিরুদ্ধে কোন বিষোদগার করা হয় না। সভ্য, ভব্য, ভদ্র ও শালীনভাবে কঠিন থেকে কঠিনতর সমালোচনাও করা হয়। কিন্তু সংস্কৃতি, সমাজ, স্বকীয়তা, জাতীয়তাবোধ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দেশ, গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক দল ও বিরোধী দল উভয়ের মধ্যে একটা সংহতি, ঐক্য ও বোঝাপড়া সবসময়ই লক্ষ্যণীয়।
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চার অভাবেই দেশে গণমাধ্যম সত্যিকারের জনমাধ্যম হতে পারছে না। দলীয়করণ, পরিবারতন্ত্র, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি গণতন্ত্র আর গণমাধ্যম কোনটাকেই শক্তিশালী হতে দেয়নি বাংলাদেশে।
মিডিয়া জনগণের মুখপাত্র না হয়ে সুবিধাবাদি-তল্পিবাহক দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ক্ষমতারোহন কিংবা ক্ষমতাকে পাকাপোক্তকরণের হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে।
শোষণ, নির্যাতন, বঞ্চনা, হত্যা, খুন, গুম, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড কেবলমাত্র একটা আইনের শাসনহীন সমাজ ও রাষ্ট্রেই চলতে পারে। গণতন্ত্রহীন সমাজে মিডিয়াও তাই আইনের শাসনের পক্ষে কিংবা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা নিতে পারে না। কোন সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক সমাজে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলেই হয় খুন, নাহয় নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর বাইরেও আছে দুর্নীতিবাজ শাসনযন্ত্র,ধর্মান্ধ,সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীসহ নানান অপশক্তি।
প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রহীন সমাজে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাহরণ একটা স্বাভাবিক মামুলি ব্যাপার।
এখন জানা যাক স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন ও গণমাধ্যমের ওপর সহিংসতার একটা চিত্র। ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আমলে চারটি পত্রিকা ব্যতিত সকল সংবাদপত্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গণকণ্ঠ সম্পাদক আল মাহমুদ এবং সাপ্তাহিক হককথা সম্পাদক মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানিকে গ্রেফতার করা হয় সেই আমলে। এরশাদের আমলে শফিক রেহমান দেশ ছাড়েন।
১৯৮৪ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ আমলে দফায় দফায় কারাবরণ ও র্নিযাতনে মারা যান দৈনিক রানারের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মাজেদ।
১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় নির্বাচন। রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয় জেনারেল জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপি। সরকারি মালিকানাধীন সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থা, গণমাধ্যম থেকে বিএনপির কাছে ‘অপছন্দনীয়’ সাংবাদিকরা গণছাঁটাইয়ের শিকার হন। কোন রকমের টার্মিনেশন বেনিফিট ছাড়াই বিএনপি সরকার ছাঁটাই করে দৈনিক বাংলার তৎকালীন সম্পাদক তোয়াব খান, তৎকালীন সাপ্তাহিক বিচিত্রার নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার কবিরসহ ১৪ জন সিনিয়র সাংবাদিককে।
মঈন উ আহমদ ও ফখরুদ্দীনের আমলে জনকণ্ঠ সম্পাদক আতিকউল্যাহ খান মাসুদ, প্রথাবিরোধী বিশিষ্ট নাট্যকার-অভিনেতা, কলামিষ্ট মলয় ভৌমিক, কার্টুনিষ্ট আরিফুর রহমান নির্যাতনের শিকার হন। আজ পর্যন্ত নির্যাতনকারি কারও শাস্তি হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে খুলনায় এএফএম রাজ্জাক, ঢাকায় এফএম মাসুমের ওপর নির্যাতন করা হয়। রাজধানীতে ঢাকাতেই দেশটিভির সাংবাদিক গিয়াস আহমদ এর ওপর পুলিশ নির্যাতন করে।
বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে ২০১১ সালের ২৮ জানুয়ারী পল্টনের নিজ বাসায় খুন হন প্রবীণ সাংবাদিক দৈনিক জনতার সহ-সম্পাদক ফরহাঁদ খাঁ ও তার স্ত্রী রহিমা খাতুন। একই সালের ৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ কুকরাইল এলাকায় গলা কেটে হত্যা করা হয় দৈনিক ভোরের ডাকের গোবিন্দগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ফরিদুল ইসলাম রঞ্জুকে।
২০১০ সালের ৯ মে গুপ্তহত্যার শিকার হন বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার সিনিয়র ক্যামেরাম্যান শফিকুল ইসলাম টুটুল। একই সালের ২৮ এপ্রিল খুন হন বিশিষ্ট সাংবাদিক সাপ্তাহিক ২০০০ এর সিলেট প্রতিনিধি ফতেহ ওসমানী।
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ঢাকায় খুন হন এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলাম আতিক, একই সালের ৩ জুলাই ঢাকার পাক্ষিক মুক্তমনের স্টাফ রিপোর্টার নুরুল ইসলাম ওরফে রানা খুন হন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে রূপগঞ্জে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সংবাদদাতা ও রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আবুল হাসান আসিফ মার্ডার হন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি ও মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার। নিহত এই সাংবাদিকযুগল স্বামী-স্ত্রী। ছয়বছর বয়সী একমাত্র শিশুপুত্র মাহির সরোয়ার মেঘের সম্মুখে এই সাংবাদিক দম্পত্তি খুন হয়েছেন।
কিন্তু আজও খুনিদের ধরেনি সরকার।
পুলিশ, এলিট ফোর্স ও সরকার এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনার পর থেকেই বিতর্কিত পদক্ষেপ ও কথাবার্তা বলে আসছে। বিশেষ করে স্বয়ং সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে বলেন, “সরকারের পক্ষে কারও বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব নয়”। মূলত: এই বক্তব্যের পরই সাগর-রুনি হত্যার খুনিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর তৎপরতা সন্দেহজনক অবস্থায় চলে আসে। এমনকি হাইকোর্টও সাগর-রুনি হত্যা সংক্রান্ত কোন রিপোর্ট প্রকাশ-প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সবমিলিয়ে খুনিদের সঙ্গে সরকারের কোন না কোন মহলের যোগসূত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে!
চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পত্তি হত্যার ঘটনার পর থেকেই সন্দেহের তীর তিনদিকে ছুটেছে। সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রি, একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের মালিক ও তার ভাই এবং একজন সিনিয়র সাংবাদিকের নাম আছে এই সন্দেহের তালিকায়। সাগর-রুনির খুনি হিসেবে সন্দেহভাজন তিনটি পক্ষই খুবই শক্তিশালী। বিশেষ করে মিডিয়া সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ঘনিষ্ঠতা আছে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। ফলে সাগর-রুনির খুনিরা আদৌ গ্রেফতার হবে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে জনমনে।
দেশে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনই নয় পাশাপাশি সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরার ঘটনাও একটা সাধারণ ব্যাপার। খালেদার আমলে একুশে টিভি বন্ধ করে সরকার। বর্তমান হাসিনা সরকার চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করেছে হাসিনার মহাজোট সরকারই। বাংলা দৈনিক আমার দেশের প্রকাশনাও বাতিল করেছিল তারা। সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও প্রতিবেদক ওলিউল্যাহকে রিমাণ্ডের নামে নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও বিনা বিচারে কারাগারে আটকে রেখেছে সরকার। ৫ মে, ২০১৩ শাপলা চত্বরের ঘটনা সরাসরি সম্প্রচারের কারণে দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি অবৈধভাবে বন্ধ করে রেখেছে সরকার।
সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের মাথার ওপরে মানহানি, আদালত অবমাননার খড়গ নিত্যদিনের ঘটনা। এছাড়া হত্যার হুমকিও বাংলাদেশে কমন বিষয়। নিউএইজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবিরকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে প্রায়শ:ই। দৈনিক প্রথম আলোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক তৎপরতা আছেই। খ্যাতিমান কলামিষ্ট, আইনবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে। দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদককেও আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ড দেয়া হয়েছে।
সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তারপরও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ ক্ষমতাসীনদের একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রিয় একুশে টিভির ওপর এখনও সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী চাপ অব্যাহত আছে। একুশে টিভি ও ডেইলি স্টারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংবাদ সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। সমস্ত বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলিকে সরকারি খবর সম্প্রচারে বাধ্য করা হয়েছে।
গোটা মিডিয়াপাড়া চাপের মুখে আছে। একদিকে সন্ত্রাসী হামলা, হত্যা-নির্যাতন আরেকদিকে দমন-পীড়নের খড়ক। এই দ্বিমুখী চাপে পড়ে গণমাধ্যম স্বাধীনতা হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
গণমাধ্যমকে নানা অভিধায় অভিহিত করা হয়ে থাকে। গণমাধ্যম হলো সমাজের চোখ, দর্পণ। গণমাধ্যম হলো জাতির বিবেক, জনতার কণ্ঠস্বর। গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ইত্যাদি নানা নামে গণমাধ্যমকে অভিহিত করা হয়। কিন্তু সেই জাতির বিবেকের ওপর চলে নানান জুলুম-অন্যায় অত্যাচার। গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর করা হয় নির্যাতন, এমনকি তাদরকে হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু খুনি ও নির্যাতনকারিরা দায়মুক্ত পাচ্ছে সবসময়।
দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রায়শ:ই মিডিয়ার ওপর নাখোশ হচ্ছেন। তিনি বলছেন, মিডিয়া নাকি যা ইচ্ছে তাই লিখছে। বর্তমান সরকারের আমলে নাকি সাংবাদিক ও গণমাধ্যম অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছেন!
গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস, আস্থা ও চর্চা থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কেউ কখনও হস্তক্ষেপ করতে পারে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইলে সাংবাদিক সমাজকে রাজনৈতিক মত ও পথ ভুলে গিয়ে পেশাগত দৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।
রাষ্ট্রপক্ষকেও এক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে হবে। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা সমূহকে উত্তীর্ণ করতে হবে আন্তর্জাতিক মানে এবং এসবক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হলে সেখানে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মতামত ও সুপারিশের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যমকে দিতে হবে মত প্রকাশের আর সত্য-উদ্ঘাটনের সুযোগ।
এছাড়া সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিধান, মামলার ক্ষেত্রে জামিন করানো, অপরাধ তদন্ত, বাক্-স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং তথ্যগত ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। আর তা হলেই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা কমতে পারে| সর্বোপরি বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার অনন্য সোপান হিসেবে যথার্থ ভাবে কাজে লাগিয়ে মুক্ত গনমাধ্যমের উত্তোরণ করাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।
[b]ঢাকা,৩ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস[/b]
গণমাধ্যম
গণমাধ্যম স্বাধীন হোক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক!
আজ ৩ মে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ বছর দিবসটির জন্য জাতিসংঘ প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করেছে 'মিডিয়া ফ্রিডম ফর এ বেটার ফিউচার' অর্থাৎ ‘উন্নত ভবিষ্যতের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা'





