বিবিসি খ্যাত সাংবাদিক সিরাজুর রহমান আর নেই। লন্ডনের একটি হাসপাতালে সোমবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি........রাজেউন)।
প্রবীণ এ সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনে বসবাস করে আসছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস ও কালের সাক্ষী ছিলেন সিরাজুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সংবাদ তার কণ্ঠেই প্রচার করেছিল বিবিসি। ‘এক জীবন এক ইতিহাস’নামের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে তিনি বর্ণনা করেছেন নানা ঐতিহাসিক ঘটনা। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৭টি।
সিরাজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায় হলেও স্কুলজীবন কেটেছে কলকাতায়। তার সাংবাদিকতার শুরু কলকাতায়। মেট্রিক পরীক্ষার আগে কলকাতায় যোগ দেন দৈনিক আযাদ পত্রিকায়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ঢাকায় ফেরেন পরিবারের সঙ্গে।
বাবা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ছিলেন কলকাতা আলীয়া মাদরাসার শিক্ষক। ঢাকা কলেজের ছাত্র হিসেবে সিরাজুর রহমান অংশ নেন ভাষা আন্দোলনে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত জাতীয় সঙ্গীতের অফিসিয়াল যে মিউজিকটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাজানো হয় সেটা তৈরির পেছনে মূল ভূমিকা ছিল তার।
ইন্টারমিডিয়েট অধ্যায়ন অবস্থায় দৈনিক ইনসাফ ও ইত্তেহাদ পত্রিকায় বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পর্যায়ক্রমে দৈনিক আযাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, ইত্তেহাদ, পাকিস্তান অবজারভার, দৈনিক মিল্লাত ও দৈনিক ইনসাফে বিভিন্ন পদে চাকরি করেন। পাশাপাশি কলকাতার সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা ‘সত্যযুগ’-এ পূর্ব পাকিস্তান প্রতিনিধি হিসাবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করেন।
বিবিসিতে চাকরি হওয়ার পর ১৯৬০ সালে চলে যান লন্ডনে। ৩৪ বছর কাটিয়েছেন বিবিসি রেডিওর লন্ডনে প্রধান কার্যালয়ে। অবসর নিয়েছেন দুই দশক আগে। সিরাজুর রহমান মৃত্যুকালে বৃদ্ধা স্ত্রীকে রেখে গেছেন। তিনি দুই সন্তানের জনক। তার দুই সন্তান আগেই মারা যান।
ইআর





