ঢাকা: সংসারের ভাগ্যের চাকার ঘানি টানা মানুষটার নাম হলো- বাবা। বাবার স্নেহে দিবস নয়। দিবসের জন্যও স্নেহ নয়। হৃদয়ের টানে বাবার দরদ। সন্তানের আবেদন পূরণ না হলে বাবার জন্য যন্ত্রণার। সন্তান দুরে থাকলে বাবার অস্বস্তির শেষ নেই। বাবার ভালবাসার আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই। তবে কর্মব্যস্ততা বাবা থেকে কিছু সময় দুরে রাখে। বাবা দিবসে তা নতুন করে উজ্জিবিত হয়, শাণিত হয়।নিজের স্বপ্ন হত্যা করে পরিবারের স্বপ্নকে আগলে রাখার এক শ্রেষ্ট মানুষ ”বাবা”।

বিশ শতকের গোড়ার দিকে দিবসটি পালন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বে একেকটি দেশ একেক দিন বাবা দিবস পালন করলেও বাংলাদেশসহ এশিয়া ও ইউরোপের অধিকাংশ দেশ জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালন করে দিবসটি।

বিশ্বের প্রায় ৫২ দেশে এ দিবসটি পালিত হয়। পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশের জন্য দিনটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়ে থাকে।

সন্তান যত বড়ই হোক, বাবার কাছে সন্তানই। সন্তানেরও অনুভূতি বাবার প্রতি শ্রদ্ধার। নতুন প্রজন্মের কাছে মা দিবস, বাবা দিবস ইত্যাদি দিবসগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটা অবশ্যই ভালো দিক। এতে বাবা-মা’র প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়ায়। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ঘরে ঘরে নানা আয়োজনে পালিত হয় বাবা দিবস। বাঙালি সন্তানদের হৃদয়ে দিবসটি উৎসবে পরিণত হয়েছে।

ভাষার পরিবর্তনে রক্তের টানের পরিবর্তন নয়। বাংলায় ‘বাবা’, জার্মানি ভাষায় ‘ফ্যাটা’, ইংরেজিতে ‘ফাদার’এবং ভারতীয়রা বলেন ‘পিতাজি’। কোন ক্ষেত্রেই ভালবাসার নেই পরিবর্তন।

প্রিয়তম বাবা,
কেমন আছো? আমি ঢাকায় এখনো সুস্থ্য ও নিরাপদে ভালো আছি। নিয়মিত ওষুধ খেও এবং নিজের যত্ন নিও। বাড়িতে সাবধানে চলাফেরা করো। তোমার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।
- ইতি তোমার আদরের সন্তান ‘‘মোঃ আবু বকর ছিদ্দিক’’ (বাবু)।

এভাবে এক সময় চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ হইতো কিন্তু আজ আধুনিকতার যুগে, বিজ্ঞানের যুগে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও নিমিষেই বাবার সাথে যোগাযোগ করা যায়, ভালোবাসা, আগ্রহ, আর উদ্দীপনা যেন দিনদিন কমতি করছি। এখন আর হারিকেনের আলোয় চিঠি লিখে না, চিঠির অপেক্ষায় আমরাও কাতর হই না। তবে ভালোবাসা টের পাওয়া যায়।

এই মহামারী করোনায়ও বাবা গ্রামে থেকে দিনরাত আমাদের চিন্তায় অস্থির সব সময়। তাই তো, বাবার প্রতি হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দিয়ে জেগে উঠুক শ্রদ্ধাবোধ। বৃদ্ধাশ্রম নিপাত যাক। বাবা থাকুক সবার পাশে। ‘উহ্’ শব্দও না করুক প্রত্যেকের বাবা। আজকের দিন হোক শুধুই বাবাময়।

লেখক: মোঃ আবু বকর ছিদ্দিক, গণমাধ্যম কর্মী।