রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে গুরুতর আহত একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক মঞ্জুর মোরশেদ রিয়েন চিকিৎসা করতে গিয়ে হারিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা। প্রায় ১ মাস হাসপাতালের বিছানায় থেকে ভোগ করেছেন কষ্ট-যন্ত্রণা। বার বার অভিযোগ করেও রেল কর্তৃপক্ষের কোনো সহায়তা পাননি। নেয়া হয়নি দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এরকম দুর্ঘটনা ঘটলে- এটা অবশ্যই তাদের অপরাধ। অনেক সময়ই তারা যাত্রীদের সঙ্গে এ ধরণের আচরণ করে থাকেন। এতে নারী, শিশু ও রোগীরা বিপদে পড়েন। ট্রেনে শুধু যাত্রী আনা-নেয়া করলেই হবে না, নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত।
তিনি বলেন, ঘটনার পর রিয়েন অভিযোগপত্র দিয়েছেন। এতে যদি কাজ না হয়, তাহলে তিনি মামলা দায়ের করতে পারেন।
গত ২৭ অক্টোবর রাজধানীর স্কয়ার হসপিটালে সাংবাদিক মঞ্জুর মোরশেদ রিয়েনের মেরুদণ্ডে অপারেশন করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজ বলেছেন- রিয়েন আস্তে আস্তে সেরে উঠলেও পুরোপুরি সুস্থ হবেন না। তার একটি নার্ভ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
রিয়েন বলেন, 'আমি একজন গণমাধ্যমকর্মী, আমি যদি পুরোপুরি সুস্থ না হই তাহলে কিভাবে আমার পেশাদারিক দায়িত্ব পালন করবো।
সাংবাদিক রিয়েন টাইমনিউজবিডিকে বলেন, 'ঘটনার পরই আমি ১৯ অক্টোবর অভিযোগ দায়ের করি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালকের পক্ষে তার একান্ত সচিব সদরুল হক অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন- বিষয়টি অতিরিক্ত যুগ্ম মহাপরিচালক মিহির কান্তি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। পরে আমি মিহির কান্তির সঙ্গে ফোনে কথা বললে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাকে জানান। কিন্তু অদ্য পর্যন্ত আর কোনো খোঁজ নেই। পরবর্তীতে আমি ফোন করেও আর তাকে পাইনি।
এই গণমাধ্যমকর্মী দু:খ প্রকাশ করে বলেন- ' আমি চাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমার মতো এরকম বিপদ যেন আর কারো না হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের অবস্থাই যদি এরকম হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে?
এ বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়েছে কী না তা জানতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের যুগ্ম মহাপরিচালক মিহির কান্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, পাবনায় পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ-উল-আযহা পালন শেষে কর্মস্থলে ফিরে আসতে ১০ অক্টোবর ঈশ্বরদী বাইপাস রেলষ্টেশনে আসেন রিয়েন।
পদ্মা ট্রেনটি ট্রেনের পরিচালক এ/সি সিট, এ/সি চেয়ারসহ মোট তিনটি কমপার্টমেন্ট ইচ্ছাকৃত ভাবেই প্লাটফরমের বাহিরে মাঠের মধ্যে দাঁড় করায়। সে অবস্থায় তিনি ছাড়াও অনেকে শিশু বৃদ্ধ ও মহিলা যাত্রী বেকায়দায় পড়েন।
এ সময় কর্তব্যরত পরিচালককে তার শারীরিক অক্ষমতার কথা জানিয়ে কমপার্টমেন্ট দুটি প্লাটফরমে নিতে অনুরোধ করেন।
প্রতি উত্তরে পরিচালক সাহেব এই সাংবাদিককে বলেন, 'উঠতে পারলে উঠুন, না উঠলে আমি ট্রেন ছেড়ে দিব'।
সেই অবস্থায় বাধ্য হয়ে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে মেরুদন্ডে গুরুত্বর আঘাতপ্রাপ্ত হন মঞ্জুর রিয়েন ( আগেই তার একটি অপারেশন করা হয়েছিল)।
এমন অবস্থায় আনুমানিক রাত ১২টায় শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি ঢাকা বিমানবন্দর ষ্টেশনে পৌছান। এ সময় পরিচিতজনদের সহায়তায় স্কয়ার হসপিটালের জরুরী বিভাগে আসেন। সেখানে চিকিৎসকরা জরুরী ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে মঞ্জুর মোরশেদ খান রিয়েন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে ক্ষতিপূরন চেয়ে একটি অভিযোগপত্র দেন।
বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে বিবেচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ তার অপারেশনের ব্যায়ভার বহন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রেলের মহাপরিচালকের কাছে অনুরোধ করেন তিনি।
এছাড়া সাংবাদিক মঞ্জুর মোরশেদ খান রিয়েন পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন।
কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লষ্ট থানার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনে ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানান রিয়েন।
জেএ





