মঙ্গলবার (৫ মে) এ আদেশ মুলতবি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এদিন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি কার্যতালিকার দুই নম্বরে ছিল।
এদিন ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় ১২ আসামির পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবীরা হাজির হন। বিচারকার্য শুরুর একপর্যায়ে তাদের উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী বলেন, পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আজ দিন ধার্য ছিল। তবে আদেশটি মুলতবি করা হলো। সপ্তাহখানেক পর এ আদেশ দেওয়া হবে। অতএব আপনারা চাইলে যেতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ অন্যরা।
শামীম ওসমান ছাড়া পলাতক অন্যরা হলেন— শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।
এর আগে, ২৩ এপ্রিল আসামিদের অব্যাহতি (ডিসচার্জ) চেয়ে শুনানি শেষ করেন আইনজীবী মো. আলী হায়দার, শেখ মুস্তাভী হাসান ও আমির হোসেন। ১৯ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানিয়ে প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে মামলায় আনা তিনটি অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।
প্রথম অভিযোগ হলো- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী ২১ জুলাই ফাতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্টে বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যা করা হয়।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
এমএম