রোববার দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাউছার হুসাইন গত ৮ জুলাই আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ৬ অক্টোবর মামলার চার্জশিট গ্রহণের বিষয় শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
এ মামলায় শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও উল্লেখযোগ আসামিরা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক ও জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও মশিউর রহমান সজল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে দমনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিদেশ থেকে দেওয়া বার্তার মাধ্যমে অন্য আসামিদের অংশগ্রহণে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, তৎকালীন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও র্যাবের কর্মকর্তারা আন্দোলন দমনে অধস্তন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তাদের নির্দেশে ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের গত ২০ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইলে আন্দোলনে অংশ নেন জিসান। ওই দিন আন্দোলন কারীদের পানি পান করাচ্ছিলেন জিসান। এ সময় আসামিদের গুলিতে নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় জিসানের বাবা বাবুল মিয়া ২০২৪ সালের ২৫ অগাস্ট একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এস