বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় একটি বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, রাজীব মিস্ত্রি ওই মামলার ৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরের দারোগার মোড় এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। পীর আবদুর রহমান হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত আসামিসহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া র‍্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র‍্যাব ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ায়।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, রাজীব মিস্ত্রি রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানা রোডের একটি সেলুনের সামনে অবস্থান করছেন। পরে র‍্যাব-৫ রাজশাহী ও র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়ার যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে, একই ঘটনায় দশম শ্রেণির স্কুলছাত্র আলমগীর হোসেন (১৬), বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলাম (২৩) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এ মামলায় মোট চারজন আসামি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া স্কুলছাত্রকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত রাজীব মিস্ত্রিকে শুক্রবার দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার রাজীব মিস্ত্রিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে কয়েক শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কক্ষ থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে তারা দরবারে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালায়।

এস