সোমবার (৮ মে) কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রোববার (৭ মে) তাকে এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কক্সবাজার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। এ সময় আদালতের বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শনিবার (৬ মে) রাতে মহেশখালীর চরপাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে কামাল হোসেন ওরফে বাইট্যা কামাল, আবু তৈয়ূব, করিম সিকদার, গিয়াস উদ্দিন ও ফজল কাদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে ছয় আসামি কক্সবাজার জেলা কারাগারে আছেন।

এ দিকে কামাল আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘এ ঘটনার সময় তিনি কক্সবাজার শহরে ছিলেন। ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের সঙ্গে তার কয়েক দফার কথায় নিশ্চিত হয়েছেন যে ১০ জনের ট্রলারটি সাগরে ডাকাতি করতে নেমেছিল। ডাকাতির একপর্যায়ে কয়েকটি ট্রলারের জেলেরা ১০ জনকে জিম্মি করে প্রথমে গণপিটুনি দেন। এরপর গুম করার জন্য মরদেহগুলো বরফ রাখার কক্ষে আটকে রেখে ট্রলারটি (ডুবন্ত ট্রলার) সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।’ মামলার অপর দুই আসামি (ট্রলারের মাঝি) আবু তৈয়ূব ও ফজল কাদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেন, ‘এ ঘটনাটি তাদের চোখের সামনে ঘটলেও এর সঙ্গে তারা জড়িত ছিলেন না।’

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এই মামলায় এজাহারভুক্ত দু’জনসহ মোট সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল নাজিরারটেক পয়েন্টে ভেসে ট্রলার থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। পরে গত ২৫ এপ্রিল চারজনের নাম উল্লেখ মহেশখালীর মাতারবাড়ির বাইট্যা কামাল, আনোয়ার হোসেন, করিম সিকদার ও বাবুল মাঝি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন ডুবন্ত ট্রলারের মালিক ও মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের বাসিন্দা নিহত সামশুল আলম মাঝির স্ত্রী রোকিয়া আকতার।

এবি