এই দুই তরুণ হলেন মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ হৃদয় এবং একই কলেজের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রুবাই হাসান।

গত ৯ আগস্ট পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করেন তারা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জিরো পয়েন্টে পৌঁছান।

নতুন জায়গা দেখা, মানুষের জীবনযাপন কাছ থেকে জানা এবং ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের আগ্রহ থেকেই এমন ব্যতিক্রমী যাত্রার পরিকল্পনা করেন তারা। সাধারণ ভ্রমণের বদলে এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন, যা সবাই করেন না।

রুবাই হাসান জানান, বিভিন্ন শখ ও নতুন কিছু করার প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে। বড় ভাই হৃদয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই ক্রস-কান্ট্রি ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। এই যাত্রার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও জনপদকে কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দীর্ঘ পথের এই যাত্রায় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে দুই তরুণকে। পায়ে ব্যথা, শারীরিক অসুস্থতা ও প্রচণ্ড ক্লান্তির পাশাপাশি রাতে থাকার জায়গা নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন তারা।

কখনো মসজিদে রাত কাটিয়েছেন, আবার এক রাতে পুলিশের সহায়তায় থানায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। পথ চলতে গিয়ে মানুষের নানা ধরনের মন্তব্যও শুনতে হয়েছে। তবে কোনো কিছুই তাদের লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি।

পুরো যাত্রায় জনপ্রতি প্রায় ২০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে বলে জানান তারা।

রুবাই হাসান বলেন, সবাই ঘোরাফেরা করে, কিন্তু তারা একটু ব্যতিক্রমী কিছু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেখান থেকেই দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পায়ে হেঁটে যাওয়ার চিন্তা আসে।

তার ভাষায়, এ ধরনের যাত্রায় মানুষের জীবনযাপন ও বিভিন্ন জনপদকে একদম কাছ থেকে জানার সুযোগ পাওয়া যায়। সেই আগ্রহ থেকেই বড় ভাই হৃদয়ের সঙ্গে এই অভিযানে নামেন তিনি।

আব্দুল আহাদ হৃদয় জানান, ৯ আগস্ট দুপুরে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়। প্রথম দিকে পথচলা স্বাভাবিক থাকলেও পরে রাতে থাকার জায়গা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। শারীরিক অসুস্থতার মধ্য দিয়েও তাকে পথ চলতে হয়েছে।

হৃদয় বলেন, এর আগেও তিনি দেশের ৪৯টি জেলা ভ্রমণ করেছেন। ভ্রমণপ্রিয় বাবা এবং পরিবারের সহযোগিতা তাকে দীর্ঘ এই যাত্রা শেষ করার সাহস জুগিয়েছে।

দুই তরুণের এই ব্যতিক্রমী যাত্রায় গর্বিত তাদের বন্ধু, পরিবার ও স্থানীয়রা। রুবাইয়ের সহপাঠী সাদিয়া বলেন, তারা দুজনই ভ্রমণপ্রিয় এবং এর আগে অনেক জেলা ঘুরেছেন। এবার আরও বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেটি সফলভাবে শেষ করায় তারা বন্ধু হিসেবে গর্বিত।

২৮ দিনে ৯৫৬ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার এই অভিজ্ঞতা তাদের কাছে যেমন কঠিন ছিল, তেমনি ছিল আনন্দ ও নতুন কিছু জানার এক অনন্য সুযোগ।

এস