পাখির বাবা আবুল কালাম একজন সাধারণ মুদির দোকান চালান। পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো। তবু মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি। মা ঘর সামলানোর পাশাপাশি মেয়েকে সাহস জুগিয়েছেন। সংসারে সচ্ছলতা না থাকলেও পাখি নিজের দায়িত্ব নিজেই বুঝে টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালায়। সপ্তম শ্রেণি থেকে শুরু করে সে নিয়মিত ছোট ছেলে-মেয়েদের পড়িয়েছে।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় আলহাজ মাহমুদ আলী বি এল বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়ে এ সাফল্য অর্জন করেছে পাখি। তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে একজন চিকিৎসক হয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

পাখির সাফল্যে তার পরিবার ও গ্রামবাসী আনন্দিত। প্রতিবেশী হাবিব মিয়া বলেন, পাখি খুব পরিশ্রমী। টিউশনি করে সংসার সামলে পড়াশোনা করেছে। তার জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমরা গর্বিত। আরেক প্রতিবেশী আনোয়ারা বেগম জানান, ও আমাদের গ্রামের গর্ব। ছোটবেলা থেকে দেখছি কত কষ্ট করেছে। আশা করি, একদিন ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষের উপকার করবে।

পাখির বান্ধবী সাথী আক্তার জানায়, ওর স্বপ্ন অনেক বড়। কিন্তু কখনো অহংকার করে না। বরং আমাদেরও উৎসাহ দেয়। এই বয়সে এমন সংগ্রাম করা সত্যিই অসাধারণ।

পাখি নিজেই বলেছে, টিউশনি থেকে যে টাকা পেতাম, তা দিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতাম আর কিছু সংসারেও দিতাম। বাবা-মায়ের সাপোর্ট না পেলে হয়তো এতদূর আসতে পারতাম না। আমি ডাক্তার হয়ে দরিদ্র মানুষের পাশে থাকতে চাই।

তার বাবা আবুল কালাম বলেন, মেয়ের ইচ্ছা ডাক্তার হবে। সংসারে কষ্ট থাকলেও আমি তাকে পড়াতে চাই। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, পাখি খুব মেধাবী। লেখাপড়া চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে। আমাদের বিদ্যালয় থেকে এবার ১৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ২৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাখি আমাদের গর্ব।

এনএইচ