এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন এবং সাতটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পিস্তল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোতোয়ালী থানা থেকে লুট হওয়া বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাদের অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

ইতোমধ্যে ওই হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত আফসার, ধামা ইলিয়াস ও দিদারকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম কমান্ডার ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ বাহিনীটির সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোররাতে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় ওয়াজ পল্লানের বাড়িতে অভিযান চালান।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারী মোবারক ও তার সহযোগীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষায় এবং সরকারি অস্ত্র ও পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাল্টা গুলি চালান। এতে পুলিশ ও সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন মোহাম্মদ মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক (৩৭), মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)।

অভিযানে একটি ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তল, একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার এবং একটি দেশীয় পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৯ এমএম তরাস পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি, ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তলটি ইতালির তৈরি এবং রিভলবারটি পাকিস্তানের তৈরি বলে জানায় পুলিশ।

এ ছাড়া ৯ এমএম পিস্তলের ১৮ রাউন্ড গুলি, ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তলের পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, তিনটি পিস্তলের গুলির খোসা এবং চারটি শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার মোবারক পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত আসামি। ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তলটি প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অস্ত্রটির উৎস এবং কীভাবে সেটি অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাদের প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত। অস্ত্র পরিচালনায় সে পারদর্শী। তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরীর সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, বড় সাজ্জাদের নির্দেশে সংঘটিত প্রায় সব খুন ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মোবারক সরাসরি উপস্থিত থেকে গুলি করত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি বড় সাজ্জাদের নির্দেশের বাইরেও ফটিকছড়ি ও আশপাশের এলাকায় সে নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার রাইহান ফটিকছড়ির শাহনগর এলাকার বাসিন্দা। ফরিদ ও নাছিরও একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূল এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান চলমান থাকবে। অপরাধী যতই শক্তিশালী বা দুর্ধর্ষ হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত পুলিশের অভিযান চলবে।

এমএম