তবে এখনো কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৮৯ জন। মাত্র সোয়া এক ঘণ্টার ব্যবধানে আরও ৪৩ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে বন্যার সম্ভাব্য কারণ মনে করা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, হিমবাহের বরফ, পাথর ও মাটির ধস থেকে এই ভয়াবহ জলস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিতাওয়ানে ১০৯টি, পূর্ব নাওয়ালপারাসিতে ৬২টি, দাধিংয়ে ২৭টি, গোর্খায় ২০টি, রাসুয়ায় ১৭টি, পশ্চিম নাওয়ালপারাসিতে ১৫টি, নুয়াকোটে ১২টি এবং তানাহুনে ৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের হিসাবে ৮২৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও রয়েছেন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৪৪ জন, পুলিশের ২৮ জন এবং সশস্ত্র বাহিনীর আরও ১৩ সদস্য রয়েছেন।

এর আগে বুধবার সকালে হঠাৎ রাসুয়া এলাকায় বন্যার পানি নেমে আসে। এতে ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর পানি বেড়ে যায় এবং ভোটেকোশী নদীও ফুলেফেঁপে ওঠে। প্রবল স্রোতে নদীগুলোর আশপাশের বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে।

নেপালের পাশাপাশি চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতেও এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে চীন তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল।

এস