বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকার এক্সপ্রেসওয়ের ইন্টারসেকশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ভাঙ্গার তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী শাহাদাত আহমেদের ছেলে কাওসার আহমেদ ওরফে রাতুল (১৭) এবং পাশের নূরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের শুকুরহাটি গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী খোকন মাতুব্বরের ছেলে রাজু মাতুব্বর (২০)। কাওসার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
তুজারপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিল্লাল শেখ বলেন, কাওসারের আগে লাল রঙের একটি ছোট মোটরসাইকেল ছিল। নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য সে পরিবারের কাছে আবদার করেছিল। এমনকি এ নিয়ে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছিল। ৩ দিন আগে তার মা তাকে নীল রঙের অ্যাপাচি আরটিআর মোটরসাইকেল কিনে দেন।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, অ্যাপাচি আরটিআর মডেলের একটি মোটরসাইকেলে করে কাওসার ও রাজু ভাঙ্গার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে ফরিদপুরের দিকে যাচ্ছিল গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস। ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলটির গতি কমে গেলে বাসটি পেছন থেকে মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সোহাগ মিয়া বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাওসার ও রাজুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কাওসারকে স্থানান্তরের প্রস্তুতির সময়ই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট আজাদুর রহমান বলেন, আহত রাজুকে ফরিদপুরের পরিবর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার সময় কাওসার মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল। গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটির চালক বাস নিয়ে পালিয়ে গেছেন। বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এমএম