ঘটনায় ভুক্তভোগী রাব্বীর মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। তিনি বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ রাব্বীর মা মিনু বেগম বাদী হয়ে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে নরসিংদী মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন।
অগ্নিদগ্ধ তানভীর আহমেদ রাব্বী নরসিংদী পৌর শহরের বেপারী পাড়া এলাকার মনির মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন—নরসিংদী পৌর শহরের বুয়াকুড় এলাকার বাসিন্দা ও বাজির মোড়স্থ নিরালা আবাসিক হোটেলের পরিচালক জাহাঙ্গীর সরকার (৬০) এবং তার ছেলে জাহিদ সরকার (২৬)।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অগ্নিদগ্ধ রাব্বী শহরের বাজির মোড় লাইব্রেরি পট্টি এলাকার একটি সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী দেশীয় মদের দোকানে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর সরকার দোকানে এসে বাকিতে ১০ লিটার মদ দাবি করেন। রাব্বী বাকিতে মদ দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহাঙ্গীর তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং জোরপূর্বক মদ ছিনিয়ে নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
এই ঘটনার জের ধরে কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে দোকানে চড়াও হন। একপর্যায়ে জাহিদ সঙ্গে করে আনা পেট্রোল রাব্বীর শরীরে ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যান। রাব্বীর শরীরে আগুন ধরে গেলে দোকানে থাকা অন্য কর্মচারীরা দ্রুত পানি দিয়ে আগুন নেভান। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী নিপা আক্তার জানান, আগুনে রাব্বীর মুখসহ শরীরের প্রায় ৩৮ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। পরিবারটি এই নির্মম হত্যাচেষ্টার সাথে জড়িতদের কঠোরতম বিচার দাবি করেছে। ক্যানসার আক্রান্ত বাবা মনির হোসেন বলেন, "আমি নিজে ক্যানসারের রোগী, এই ছেলেটাই পুরো সংসার চালাতো। আজ সে হাসপাতালে মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছে। আমি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নরসিংদী মডেল থানার ওসি এ আর এম আল মামুন জানান, ফ্রি মদ না পেয়ে এক কর্মচারীর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা আগে থেকেই মাদকাসক্ত। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার বিকেলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর সরকারের মালিকানাধীন বাজির মোড় এলাকার ‘হোটেল নিরালা’য় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে।
এমএম





