ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের সুহাতা গ্রামের ভুলাচং উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে প্রমা। কোচিং বা প্রাইভেট কোনো সহায়তা ছিল না। নিজের চেষ্টায়ই অর্জন করেছে সেরা ফলাফল।
প্রমার বাবা শিবলু কর্মকার বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়েটার পড়ায় দারুণ আগ্রহ। পেটে ভাত না থাকলেও বই হাতে থাকত। যতটুকু পেরেছি করেছি, ধার-দেনা করেও মেয়ের পড়া চালিয়ে গেছি। বাকিটা ভগবানের রহমত।
মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ করে দেওয়ার আক্ষেপ জানিয়ে প্রমার বাবা শিবলু বলেন, প্রমা ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু সবচেয়ে বড় বাধা দারিদ্র্য। আমার যা অবস্থা, সামনে মেয়ের পড়া চালানো খুব কঠিন হবে। তাই ভাবছি পড়ালেখা বন্ধ করে দেব। ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন প্রমার। কিন্তু কলেজে ভর্তি, বই, যাতায়াত সবকিছুতেই এখন অর্থসংকট।
প্রমা বলেন, বাবা এখন পড়ালেখা চালানোর অবস্থায় নেয়। মা-বাবা ও তিন বোন মিলে একটা ঘরেই থাকতে হয়। বাবার পাশাপাশি মাও কাথা সেলাই ও পুঁতির ব্যাগ বানিয়ে সংসার চালায়। নিজের পড়ালেখা চালাতে ৯ম শ্রেণি থেকে টিউশনি করি। দুটি টিউশন করিয়ে ৬০০ টাকা পাই। সেটা দিয়ে নিজের পড়াশোনা কিছুটা চালিয়েছি।
ভারাক্রান্ত মন নিয়ে প্রমা বলেন, আমি ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু কিভাবে সম্ভব হবে জানি না। ভগবানই পারবেন আমাকে সহযোগিতা করতে। বাবা আর পড়ালেখা চালাতে পারবে না। কারণ কলেজের পড়ালেখায় অনেক খরচ। হতভাগা দারিদ্রতার কারণে আমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জনা রাণী সাহা বলেন, প্রমা সত্যিই অনুকরণীয়। কঠিন বাস্তবতায় থেকেও এমন ফলাফল বিরল। ভোলাচং উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে প্রমা একজন। সে যদি সহযোগিতা পায়, মেয়েটি অনেক দূর যেতে পারবে। আমি বিদ্যালয়ের সভাপতির সঙ্গে কথা বলব যে বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে মেয়েটির পাশে দাঁড়ানো যায় কি না। তাছাড়া আমি ব্যাক্তিগতভাবে প্রমার পাশে দাঁড়াব। সমাজের দায়িত্বশীল ও সম্ভ্রান্তদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে প্রমা পাশে দাঁড়িনোর।
এনএইচ