আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃষ্টি কমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত নগরীতে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে শনিবার রাত এবং রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে অফিস খোলার দিনেই আবারও বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়। পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ দাইয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে অফিসগামী ও কর্মজীবী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এর আগে ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে চার থেকে পাঁচ দিন চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে ছিল। কয়েকদিনে ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়, যা অতীতের বহু রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই চলতি মৌসুমে অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
অন্যদিকে, জেলার সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, পটিয়া, বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, হাটহাজারী ও আনোয়ারার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি এখনো নামেনি। কোথাও কোথাও নতুন করে পানি বেড়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
বাঁশখালীর ছনুয়া, গণ্ডামারা, কাথারিয়া এবং সাতকানিয়ার কেউচিয়া, ঢেমশা ও ছদাহা ইউনিয়নের অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পাকা ভবনের উঁচু তলায় অবস্থান নিয়েছে। কেউ আবার নৌকা বা ভেলায় করে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। যারা নিজ বাড়িতে রয়েছেন, তাদের অনেকেই খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কসংলগ্ন এলাকায় ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছালেও দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন জনপদের অনেক মানুষ এখনো কোনো সহায়তা পাননি। বৃষ্টি থেমে পানি নেমে যাওয়ার অপেক্ষায় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
এস