বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে মাছ ধরার জালে আটকে থাকা গোখরা সাপটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন ইকবাল। সাপটির জন্য আলাদা কাঠের বাক্স তৈরি করেছিলেন তিনি। নিয়মিত মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন খাবার দিতেন সাপটিকে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুললে সেটি তাঁর হাতে কামড় দেয়। পরে অসহ্য যন্ত্রণায় বিষয়টি স্ত্রী রিনা আক্তারকে জানান তিনি। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সাপটিকে পরে স্থানীয়রা মেরে ফেলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী।

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, তাঁর স্বামীর পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ ছিল। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপ না পুষতে বারবার নিষেধ করলেও স্বামী তাঁর কথা শোনেননি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল।

ইকবালের ভাই ইসলাম হোসেন বলেন, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে সাপটি না পুষতে বারবার সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু শখের কারণে তিনি কারও নিষেধ মানেননি। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই তাঁকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সাবিন ইশতিয়াক জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইকবালকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর হাত ফুলে গিয়েছিল এবং বিষধর সাপের কামড়ের লক্ষণ দেখা যায়।

চিকিৎসক বলেন, রোগীকে দ্রুত পর্যবেক্ষণে নিয়ে অ্যান্টিভেনম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে, তবে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও বলেন, বিষধর সাপে কামড়ালে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। হাসপাতালে সরকারিভাবে বিনামূল্যে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীর জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়ে।

এস