মিশরের রাজধানী কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দূতাবাসের কর্মকর্তারা স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জীবিত উদ্ধার হওয়া সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আবদুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট ৪২ জন যাত্রী লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হন। ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার পর নৌকাটি ভেঙে যায় এবং একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর ১৩ আগস্ট তারা মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছান।

জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় লোকজন নৌকাটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ২৯ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করে। তাদের অনেকেই অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে তাদের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য দূতাবাস অনুমতি চেয়েছে। সেই সুযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানান তিনি।

যাত্রীদের মৃত্যুর বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, বেঁচে যাওয়া ওই বাংলাদেশি দূতাবাসকে জানিয়েছেন, খাবার ও পানির অভাব এবং প্রচণ্ড গরমে তাদের ১০ সহযাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে হয়।

তবে মিশরের পুলিশের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করার মতো তথ্য পুলিশের কাছে এখনো নেই।

ফার্স্ট সেক্রেটারি জাকির হোসেন জানান, আবদুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪২ যাত্রীর মধ্যে ৩৮ জন বাংলাদেশি এবং চারজন সুদানের নাগরিক ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে করিমকে বলতে শোনা যায়, গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রার পর গন্তব্যের কাছাকাছি গিয়ে নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তারা আর এগোতে পারেননি।

তিনি জানান, নৌকায় কোনো খাবার বা পানি ছিল না। তার চোখের সামনে ৯ বাংলাদেশি মারা যান। পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।

দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের অনেকের শারীরিক অবস্থাও গুরুতরভাবে অবনতি হয়েছে বলে জানান করিম।

সূত্র: ডয়চে ভেলে, ইনফোমাইগ্রেন্ট

এস