এর আগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাশিয়া থেকে বিশেষ ফ্লাইটে ইউরেনিয়ামের চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে শনিবার রাত ৩টার দিকে বিমানবন্দর থেকে তিনটি লরি জ্বালানি নিয়ে রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

জ্বালানি পরিবহনের পুরো পথে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। ঢাকা থেকে রূপপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। পরিবহনের সময় যানজট এড়াতে মহাসড়কে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটে জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য দুটি কার্গোতে আরও ৪৮টি অ্যাসেম্বলি দেশে আনা হবে। এরই অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ চালান পৌঁছেছে।

আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে আরও সাতটি ফ্লাইটে ইউরেনিয়ামের চালান দেশে আসার কথা রয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রথমবার পারমাণবিক জ্বালানি দেশে পৌঁছায়। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আরও চারটি চালানে জ্বালানি আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপন করা হয়।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর পর প্রথম ইউনিটের ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। এ লক্ষ্যে গত ৩ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান রূপপুরে আনা হয়। এরপর ২১ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের দ্বিতীয় চালান এবং ২৭ অক্টোবর তৃতীয় চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এদিকে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এস