জানা গেছে, উপজেলার রাণীপুকুরের বলদিপুকুর সিংগীর ডোবা (হাজিপাড়া) গ্রামের মুকুল মিয়া বাবার পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ১৫ শতাংশ জমি একই এলাকার কাতার প্রবাসি শামীম মিয়ার কাছে বিক্রির জন্য প্রস্তাব করেন। শামীম মিয়া প্রবাসে থাকায় তার ভগ্নিপতি সাজু এবং ফুফাত ভাই শাহআলমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

স্থানীয়রা জানান, মুকুলের আরো জমি আছে, সাজিদ চাইলে অন্য জমি দখল করতে পারে। কিন্তু প্রবাসীর জমি দখল করেছে শুধু মাত্র চাঁদার দাবিতে।

মুকুল মিয়ার বড়ছেলে নাহিদ মিয়া এবং অভিযুক্ত ছোট ছেলে সাজিদ মিয়া উভয়ে আলাপ আলোচনা সাপেক্ষে পনেরো শতাংশ জমির মূল্য দশলক্ষ' টাকা নির্ধারণ করেন এবং সে অনুযায়ী বায়নামূলে কিছু টাকা গ্রহন করে।

জমি খারিজ এবং গত ৩০ জুলাই মিঠাপুকুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কবলা দলিল সম্পাদন করেন। কিন্তু জমি বিক্রি করার পর মুকুলের ছোট ছেলে সাজিদ বাবা মুকুলের কাছে তিনলক্ষ টাকা দাবি করেন। মুকুল মিয়া টাকা দিতে অস্বীকার করলে সাজিদ তাকে মারডাং করে বাড়িঘর ছাড়া করেন।

সাজিদ বাবার কাছে টাকা না পেয়ে প্রবাসি শামীম মিয়ার কাছে তিনলক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তা দিতে অস্বীকার করায় টাউটদের সঙ্গে নিয়ে গত ১ আগস্ট রাতের আঁধারে টিনসেডের ঘর তোলার চেষ্টা করে। বাঁধা দিতে গেলে মুকুল মিয়া সহ কয়েকজনকে মারধর এবং হুমকি ধামকি প্রদান করেন।

জমি বিক্রেতা মুকুল মিয়া বলেন, আমার জমি আমি বিক্রি করেছি। কিন্তু ছোট ছেলে সাজিদ কিছু টাউটদের বুদ্ধি শুনে আমার ও জমি ক্রেতা শামীমের কাছে আরো তিনলক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করছে। বলদিপুকুরে একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, যারা জমি দখল করে চাঁদা দাবি করে। এদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। হয়তোবা এই গ্রুপটি শামীম বিদেশে থাকায় আমার ছেলেকে বুদ্ধি দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে।

জমিক্রেতা শামীম মিয়া বলেন, আমি কাতারে শ্রমিকের কাজ করে এই জমিটা কষ্ট করে কিনেছি। বাবা ছেলে উভয়ের সঙ্গে বারবার কথা বলেছি। সাজিদ তিনলক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। আমি দেইনি বলে আমার জমি নাকি দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি প্রবাসে আছি।

শাহআলম মিয়া জানান, সমস্যা যাতে না-হয় সেজন্য সাজিদকে কিছু টাকা চাঁদা দেয়া হয়েছে। আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি। যদি তবু সে জমি ছেড়ে না দেয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এএসআই-মোস্তাফিজ বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে থানায় ডেকেছিলাম। কিন্তু গতরাতে টিনের বেড়া দেওয়ার কথা শুনলাম। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা জানার চেষ্টা করছি।

এনএইচ