শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ওই কারখানার গুদামে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা বাড়ার সাথে সাথেই গুদাম থেকে কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠতে দেখতে পান কারখানার শ্রমিক ও আশেপাশের লোকজন। মুহুর্তের মধ্যেই আগুন পুরো গুদামে ছড়িয়ে পড়ে এবং চারপাশ কালো ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। এ সময় আশপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটবর্তী স্টেশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কাশিমপুর ও ডিইপিজেড (EPZ) ফায়ার স্টেশনের মোট ৭টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চারদিক থেকে জলকামান ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের এসব ইউনিট আগুন নেভাতে এবং তা আশপাশের অন্য ভবনে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো অজানা
শনিবার দুপুরের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ছুটির দিন বা গুদামের ভেতরে জনবল কম থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং গুদামে কী পরিমাণ কাঁচামাল, সুতা বা তৈরি পোশাক পুড়ে ছাই হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ কিংবা ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বافণ ও ডাম্পিং কাজ শেষ হওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত সূত্রপাত এবং আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা
শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে হঠাৎ এই অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলোর যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক উদ্ধারকাজ ও আগুন নেভানোর অভিযান নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন।
এমএম











