সরকারের দাবি: পেছনে ইন্ধন ও অর্থায়ন, সরকারি দলের অভিযোগ, দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পেছন থেকে উসকানি দিচ্ছে বিরোধী দল জামায়াত। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোয় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবির আন্দোলনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। কাদের সাহায্যে করছে? এই যে কতটা দল আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে... এই দুপক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও একটি গুপ্ত দলের আচরণে কোনো পার্থক্য নেই এবং তারা সরকারের বিরুদ্ধে যৌথ অপপ্রচারে লিপ্ত।

বিরোধী দল জামায়াতের কড়া জবাব ও সরাসরি অভিযোগ, সরকারের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে কড়া অবস্থান নিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, সরকারকে আর কোনো রকম সহযোগিতা করা হবে না। এরপরই জুলাই সনদ, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে লংমার্চ ও বিভাগীয় সমাবেশের মতো সরকারবিরোধী টানা নানা কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।

অন্যদিকে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক অনুষ্ঠানে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন,“দিল্লির সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাত করছে ক্ষমতাসীন বিএনপিই। তারা আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।”

জামায়াত নেতৃত্বের দাবি, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবং রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখতে বিএনপি সরকার পরিকল্পিতভাবে ‘আওয়ামী জুজু’র ভয় দেখাচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবিকে ষড়যন্ত বলে চালিয়ে দেওয়া অনুচিত বলেও তারা মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থেকেই দুই দলের বিরুদ্ধেই স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া ও আড়াল করার অভিযোগ উঠছিল। বিএনপি সরকার গঠনের পর কিছু এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা ও কারাবন্দি নেতাকর্মীদের জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়গুলো এই সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে শেখ হাসিনার তথাকথিত দেশে ফেরার বক্তব্যের পর সারা দেশে ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে। এর জবাবে সরকার সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ডিসেম্বর পর্যন্ত কঠোর অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের হুঁশিয়ারি্র, বিদ্যমান রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়িকে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অধ্যাপক সাহাবুল হক (পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়):

“প্রধানমন্ত্রী যেহেতু দায়িত্বশীল জায়গা থেকে গোয়েন্দা তথ্যের কথা বলেছেন, তাই উপযুক্ত প্রমাণ তুলে ধরা উচিত। অন্যথায় দুই বড় দলের অনৈক্যের সুযোগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে, যা দেশের জন্য শুভ হবে না।”

অধ্যাপক তারেক ফজল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, “রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই দুই পক্ষ এমন বক্তব্য দিচ্ছে। তবে এই দোষারোপের রাজনীতি চলমান থাকলে বিতাড়িত গোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই দুপক্ষের সংযত হওয়া প্রয়োজন।”

এমএম