রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক-এর দক্ষিণ সুরমা এলাকায় শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ ও বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন ৮ নির্মাণ শ্রমিক। আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।

নিহতদের একজন বদরুল আমিন। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন তার স্ত্রী হাফিজা বেগম। আর তাদের চার সন্তান—তামিম, জুবায়ের, তানিয়া ও তাকরিম—হাসপাতালের করিডোরে বসে অপেক্ষা করছে, কিছু না বুঝেই।

একদিকে হাসপাতালের অন্য ভবনের মর্গে শীতল কক্ষে রাখা বাবার নিথর দেহ, অন্যদিকে মায়ের নিঃশব্দ কান্না—এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে অবুঝ চারটি জীবন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বদরুল আমিন দীর্ঘদিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। পরে জীবিকার তাগিদে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। প্রতিদিনের মতোই সেদিনও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কাজে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে দাঁড়ায় জীবনের শেষ পথ।

স্বজনদের ভাষ্য, হাফিজা এখনো ঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। স্বামীকে হারিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। চার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারও দিশেহারা।

স্থানীয়রা বলছেন, এই দুর্ঘটনা শুধু আটটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি—ধ্বংস করে দিয়েছে একাধিক পরিবার। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপ ও ট্রাকের চালক পলাতক রয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও এখনও অনেকে অজ্ঞাত।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আর হাসপাতালের করিডোরে বসে থাকা চার শিশুর নীরবতা যেন সেই শোককেই আরও গভীর করে তুলছে।

এস