অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শ্রীপুর ইউনিয়নের খেঁয়াইশ গ্রামের পনের বছর বয়সী আকাশী (ছদ্মনাম) গোপালনগর মহিলা আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী। ওই মাদরাসার নূরানি বিভাগের শিক্ষক পার্শ্ববর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার গোত্রশাল গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে আলমগীর হোসেন আকাশীকে দীর্ঘদিন ধরে ইভটিজিং ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। আকাশী তাঁর মাকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি মাদরাসার অপর দুই শিক্ষক ফজলুল হক ও খায়েরুল ইসলামের নিকট বিচার প্রার্থী হন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক নয়টায় আকাশী মাদরাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পরবর্তীতে আকাশী বিকেলে মাদরাসা থেকে বাড়িতে ফিরে না যাওয়ায় চিহ্নিত হয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে, শিক্ষক আলমগীর হোসেন মাদরাসার সামনে থেকে আকাশীকে জোরপূর্বক সিএনজি অটোরিকশা যোগে তুলে নিয়ে যায়। এরপর শিক্ষক আলমগীর হোসেন ও ভিকটিম আকাশীর কোন খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্র বলছে, আকাশীকে এরআগেও একবার তুলে নিয়ে যায় শিক্ষক আলমগীর হোসেন। তখন কৌশলে পরিবারের সদস্যরা আকাশীকে উদ্ধার করে। এরপর আকাশীর পরিচিত এক বোনের কাছে শিক্ষক আলমগীর হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলা ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাঠান। ভিডিওতে বলেন-‘আপু, হেতোগো মেয়ে হেতোগো কাছে থাগ। শুধু হেতোগোরে কন আঁর লগে কদ্দুর কথা কইবেললেয়। নইলে শুধু হেতিরে একটু মোবাইল দিবেল লেই কন। আঁই হিতেরে আইনতান ন। হেতোগো কাছে থাগ, নইলে শুধু একটু মোবাইলটা দিবেল লেয়’।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে শিক্ষক আলমগীর হোসেনের ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বারে বেশ কয়েকবার কল করলেও সেটি বন্ধ থাকায় সম্ভব হয়নি।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ আলম শনিবার বিকেলে বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এর আগে কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা জানা নেই।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ‘তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

এমএম