স্থানীয় বাসিন্দা ও তরুণীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত ওহাব আলী খন্দকারের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (আবু সাঈদ) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার সময় গোপালগঞ্জের ওই তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করেছেন তরুণী।
তরুণীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সম্পর্কে সাইফুল ইসলাম তাকে একাধিকবার বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন অজুহাতে বিয়ে এড়িয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন।
অনশনরত তরুণী বলেন, “ঢাকা ও গোপালগঞ্জে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কোনো উপায় না পেয়ে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য এক সপ্তাহ আগে তার বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছি। বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, তরুণী বাড়িতে আসার পর থেকেই সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নেই।
শিদলাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামাল হোসেন এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু তাহের বলেন, তরুণী গত সাত দিন ধরে ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দুই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আলাউল আকবর বলেন, “গত সাত দিন ধরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি। তবে ছেলের পক্ষের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং সমঝোতার চেষ্টা চলছে।” খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তরুণী বর্তমানে ওই বাড়িতেই অবস্থান করছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নজরদারি করছে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলছে।
এমএম