পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ হলরুমে নবাগত ইউএনও-এর যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া বক্তব্য প্রদান করেন। অভিযোগ ওঠে যে, বক্তব্য চলাকালীন তিনি উপজেলার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন শব্দ ব্যবহার করেন। এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের হুমকি ও প্রতিরোধের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে বক্তব্যের ভিডিওটি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে আপলোড করা হলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয় ।

চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার মাহমুদ নিয়াজ বলেন, 'মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াকে তার আপত্তিকর বক্তব্য ও অভিযোগের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ জবাব দেওয়ার জন্য তিন দিনের সময় দিয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি জবাব না দিয়ে উল্টো নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সাংবাদিকদের নিয়ে আবারও উস্কানিমূলক পোস্ট করেছেন। ঢালাওভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা অত্যন্ত নিচু মানসিকতার পরিচয় এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আঘাত। আমরা আইনের শাসন ও সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় এই আইনি প্রতিকার চেয়েছি।'

এদিকে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই এমন ব্যক্তিগত আক্রমণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এ ধরণের মন্তব্য আসতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরফ্যাশনে কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অভিযুক্ত নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'দল কখনোই কারো ব্যক্তিগত কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যকে সমর্থন করে না। এটি তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে।'

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান জানান, 'প্রেসক্লাব সভাপতির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি এবং সেটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপকূলীয় অঞ্চলের নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন রাইটস ফর কোস্টাল পিপল (আরসিপি) এর চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক বলেন, 'কোন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সাংবাদিকদের সংগঠন বা প্রেস কাউন্সিলে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে। প্রয়োজনে আইনী পদক্ষেপ নেওয়ারও সুযোগ আছে। সাংবাদিকদের প্রকাশ্য প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া একটি অপরাধ। তাছাড়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এ ধরণের বক্তব্য আসলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তাদের অনুসারীদের দ্বারা সাংবাদিক হেনস্তার ঝুঁকি তৈরি হয়।'

এস