বন্যায় প্লাবিত ১১২টি গ্রামের লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। ৮৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার মানুষ ইতোমধ্যে ঘরে ফিরেছেন। দুর্গত এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ২৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ২ হাজার ৩৫০টির বেশি মাছের ঘের ও পুকুর এবং ১ হাজার ৬৫৫ হেক্টর আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণিসম্পদে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। পানি সরে গেলে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হবে।
ফুলগাজীর বাসিন্দা আছমা আক্তার জানান, পানি নেমে গেলেও উঠানে এখনো হাঁটু সমান পানি। ঘরে থাকা খাবার ও ধান নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও মিলছে না। আরেক বাসিন্দা মঞ্জুনা আক্তার অভিযোগ করেন, প্রতিবছর বাঁধ ভাঙনের পরও টেকসই কোনো সংস্কার হয় না।
পরশুরামের চিথলিয়ার হালিম চৌধুরী বলেন, সঞ্চয় দিয়ে ঘর করেছি, কিন্তু একদিনও থাকতে পারিনি। চোখের সামনে পানি এসে সব নিয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার রাতে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সাড়ে ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী নৌযান নিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে।
ফেনী আবহাওয়া অফিস জানায়, টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণের পর শুক্রবার আবহাওয়া কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এলেও বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে এখনো পানি প্রবেশ করছে। পানি কমলে বাঁধ মেরামত শুরু হবে।
এর আগে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ২১টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে।
এনএইচ