এতে রোববার দুপুরের পর থেকে নির্ধারিত শিডিউল মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সংঘটিত দূর্ঘটনার পর ট্রেনচালকদের মারধর করে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

তবে বিষয়টি নিয়ে রোববার সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম মহানগরের বটতলী স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আমাদের লিখিত আশ্বাস দিয়েছেন।

এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে শাটল ট্রেনের ইঞ্জিনে রেলওয়ে পুলিশ থাকবে বলেও জানিয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এজন্য আমরা ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রোববার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শাটল ট্রেনের শিডিউল আছে। এ সময় ট্রেন চবির ক্যাম্পাসে যাবে।

সূত্রমতে, গত ৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় শাটল ট্রেন নগরীর বটতলী স্টেশন থেকে চবি ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা দেয়। সেদিন রাত ৯টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার চৌধুরীহাট রেলস্টেশন এলাকায় পৌঁছালে ভেঙে পড়া গাছের ডালের আঘাতে ট্রেনের ছাদে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষার্থীসহ ২৫ জন আহত হন।

পরবর্তীতে ট্রেনটি ফাতেয়াবাদ স্টেশনে থামলে আহতদের নিচে নামিয়ে আনেন অন্য শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা আহতদের স্থানীয় ক্লিনিক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। শাটল ট্রেনটি ক্যাম্পাসে পৌঁছালেই শিক্ষার্থীরা দুই ট্রেনচালককে মারধর করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে দেন। এ সময় তারা আগুন জ্বালিয়ে প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থী আহতের জবাব ও শাটল ট্রেনের বগি বাড়ানোর দাবি জানান। এছাড়াও জিরো পয়েন্টে অবস্থিত পুলিশ বক্সে ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে উত্তপ্ত করে তোলেন পুরো ক্যাম্পাস। ভাঙচুর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ও ভিসি ড. শিরিণ আখতারের বাসভবন। তখন আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে চমেক হাসপাতালে যান ভিসি। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

এদিকেভিসির বাসভবন ভাঙচুর, পরিবহন দফতরে যানবাহনে ভাঙচুর ও শিক্ষক ক্লাবে ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করলেও ট্রেনচালকদের মারধরের ঘটনায় কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ট্রেনচালকরা ওইদিন থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখেন। তবে রোববার বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর ট্রেন না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

বিষয়টি স্বীকার করে চবি প্রক্টর ড. নুরুল আজিম সিকদার বলেন, আগে থেকে কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই শাটল ট্রেন বন্ধ রাখা হয়। ফলে বিপাকে পড়েন ক্যাম্পাসগামী শিক্ষার্থীরা। এদিন সকাল থেকে নগরের বটতলী ও ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান নেন তারা। ফলে শাটল ট্রেন চালু করতে আমরা রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা কিছু দাবি জানিয়েছেন। আমরা সেই আলোকে ব্যবস্থা নিচ্ছি। রোববার দুপুর থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

এনএইচ