ঘটনার সূত্রপাত হয় আমির হামজার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের ছয়রাস্তা মোড় এলাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদ। দলটির নেতাদের অভিযোগ, আমির হামজা তাদের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে সংসদ সদস্যকে অপমান ও তাঁর গাড়িবহরে হামলার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কর্মসূচি শেষে নিজ গাড়িতে করে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন এমপি আমির হামজা। তাঁর গাড়িবহর ছয়রাস্তা মোড় অতিক্রম করার সময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে আমির হামজাকে বহনকারী গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসীন অভিযোগ করেছেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা আমির হামজার গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। তাঁর দাবি, হামলার সময় এমপি গাড়িতে ছিলেন এবং পরে নিরাপত্তার কারণে তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেতা-কর্মীরা হেঁটে বাড়ির দিকে নিয়ে যান। তবে হামলায় আমির হামজা গুরুতর আহত হননি বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আমির হামজার পক্ষের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা ৮ থেকে ১০ জনের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এমপির চাচা সজলসহ জামায়াতের কয়েকজন নেতা-কর্মী রয়েছেন। আহতদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভ মিছিলের সময় আমির হামজার বাসভবনেও ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়। তবে এ অভিযোগটি এখনো পুলিশ বা একাধিক স্বাধীন সূত্র দিয়ে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে বাড়িতে সরাসরি হামলা হয়েছে-এমন বক্তব্যকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে না দেখে হামলার চেষ্টার অভিযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে ছয়রাস্তা মোড় ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সরে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
আমির হামজা অভিযোগ করেছেন, তাঁর গাড়িতে হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর পক্ষের অভিযোগ, একজন সংসদ সদস্যের চলাচলের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও এ ধরনের হামলা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি রাজনৈতিক সহনশীলতা ও জননিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় এ ধরনের সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একজন সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা এবং পরবর্তী পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নিশ্চিত তথ্য হলো-ছয়রাস্তা মোড় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে এবং উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আর তাঁর বাড়িতে হামলার বিষয়টি অভিযোগ হিসেবে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তেই পরিষ্কার হবে, হামলার পরিকল্পনা কারা করেছিল এবং সংঘর্ষের প্রকৃত সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল।
এমএম