শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বক্তারা নৈতিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট ও বিভক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার নানা দিক তুলে ধরে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বের কথা বলেন। একই সঙ্গে জ্ঞান অর্জন, বই পড়া এবং অর্জিত জ্ঞান দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুশিল্পীদের কণ্ঠে পবিত্র কোরআনের সূরা আলাকের অংশবিশেষ অর্থসহ তিলাওয়াত করা হয়। এরপর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্নার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনারের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। পরে সেমিনার উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্র পাঠ এবং নাতে রাসূল (সা.) পরিবেশন করা হয়।
সেমিনারে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইতিহাসবিদ, গবেষক ও লেখক জিয়াউল হক। তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় তিনি অংশগ্রহণকারীদের নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন এবং অর্জিত জ্ঞান কলমের মাধ্যমে প্রকাশ করার আহ্বান জানান। জ্ঞানচর্চা ও লেখালেখির মাধ্যমে সমাজের নানা অসংগতি অনুধাবন এবং তা নিয়ে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পরে কবি আল মাহমুদের ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’ কবিতা আবৃত্তি করা হয়। এর মাধ্যমে সেমিনারের সাংস্কৃতিক পর্বে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়।
‘ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও ইতিহাস’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। বক্তব্যে তিনি শহীদ আব্দুল মালেকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের বিভক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন নয়; বরং জ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো এবং নৈতিক ও আদর্শিক মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
এরপর অনুষ্ঠানে একটি কোরাস গান পরিবেশন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সেমিনারের সমাপনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার শিক্ষা বিভাগীয় সম্পাদিকা সানিয়া তারান্নুম অর্নি। তিনি নৈতিক চরিত্র গঠনে সীরাতে রাসূল (সা.)-এর অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসলামী শিক্ষার অপরিহার্যতার বিভিন্ন দিক তিনি তুলে ধরেন।
সানিয়া তারান্নুম অর্নি বলেন, নৈতিক চরিত্র গঠন ছাড়া জ্ঞান মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তাই শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও আদর্শের সমন্বয় প্রয়োজন। ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তিজীবনে সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদ আব্দুল মালেকের মায়ের কাছে লেখা একটি আবেগঘন চিঠি পাঠ করা হয়। চিঠি পাঠের সময় উপস্থিতির মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ইসলামী শিক্ষা, আদর্শ ও নৈতিকতার জন্য শহীদ আব্দুল মালেকের আত্মত্যাগের স্মৃতি এ পর্বের মধ্য দিয়ে নতুন করে স্মরণ করা হয়।
এমএম