বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তাসহ চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমানকে তিনটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ঋণ দেওয়ার নামে কৃষি ব্যাংক বনানী শাখা থেকে ১৫২ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুদকের জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক মো. জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে একটি টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জিজ্ঞাসাবাদ বিকাল পর্যন্ত চলবে বলে দুদকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার তলবকৃত ব্যাংক কর্মকর্তারা ওই সময় মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ছিলেন। তাই তাদেরকে ঘটনাকালীন পদ অনুসারে তলব করা হয়েছে।
যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন- কৃষি ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা এ কে এম ফেরদৌস আলম, ঢাকার আশুলিয়া শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী, উত্তরা শাখার প্রাক্তন শাখার মো. আলী আশরাফ ও যশোর জেলার প্রধান শাখার প্রাক্তন ব্যবস্থাপক প্রনীল কুমার মণ্ডল।
একই ঘটনায় ২১ এপ্রিল বিভিন্ন শাখার পাঁচ প্রাক্তন ব্যবস্থাপককে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমান বিভিন্ন সময় দেশের চারটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে বেসিক ব্যাংক থেকে ৭৬৭ কোটি টাকা, ইসলামিক আইসিবি ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ১৫২ কোটি, সিটি ব্যাংক থেকে ছয় কোটি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর বেশিরভাগ টাকাই তিনি ঋণ নিয়েছেন ভুয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে। ব্যাংকের ঋণের নথিতে উল্লিখিত ঠিকানার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সময়ের অনুসন্ধানে এ সব তথ্য বেরিয়ে আসলে পরবর্তী সময়ে দুদক তা আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক প্রতিবেদনে এ সব ঋণ আদায় হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
কেএইচ





