১০০০ টাকার নোট বাংলাদেশে লেনদেনের সর্বোচ্চ নোট। কিন্তু এই ১০০০ টাকার নোট পাওয়া যাচ্ছে ৪০০ টাকায়। তবে এটি আসল নয়, জাল নোট।
সম্প্রতি বান্ডিল বান্ডিল জাল নোট তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সদরঘাট, গুলিস্তান, ফার্মগেট, নিউমার্কেটের মতো রাজধানীর জনবহুল ও কর্মব্যস্ততম এলাকায়।
প্রথম ধাপে জাল একটি চক্র জাল টাকা তৈরির কাজ তরে থাকে। পরে জাল নোট প্রস্তুতকারীরা দ্বিতীয় স্তরের গ্রুপটির কাছে সস্তা মূল্যে জাল টাকার নোট বিক্রি করে।
দ্বিতীয় স্তরের গ্রুপটি পাইকারী বিক্রেতাদের জাল টাকা সরবরাহ করে। আর পাইকারি কারবারিরা খুচরা কারবারিদের টাকা ছড়িয়ে দেয়। এভাবেই জাল টাকা তৈরি থেকে শুরু করে নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে তা সুকৌশলে ঢাকার গুলিস্থান, যাত্রাবাড়ী, ফার্মগেট, সদরঘাট, নিউমার্কেট, কাওরান বাজার, গাবতলী ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে জাল টাকা।
মূলত: অশিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত, বৃদ্ধ, কম আয়ের লোকজনকে লক্ষ্য করে এসব জাল নোট লেনদেন হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত জাল টাকার ব্যবসায়ী আরিফের পটুয়াখালী জেলায়। সে পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় এসে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। পরে ঢাকার রায়েরবাগে থাকার সময় একটি মেসে আলাল নামের এক জালটাকা ব্যবসায়ীর সাথে তার পরিচয় হয়। আলাল তাকে জাল টাকার ব্যবসায় যুক্ত হবার জন্য প্রলোভন দেখায়। অধিক লাভের আশায় আলালের হাত ধরে আরিফ জাল টাকার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। হাজার টাকার নোট ২৬০ টাকায় ক্রয় করে ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি করতো আরিফ।
অপর জাল ব্যবসায়ী আশরাফ জানান, পোশাক কারখানায় কাজ করলেও আরিফের সঙ্গে আগে থেকেই তাঁর পরিচয় ছিল। সেই পরিচয়ের কারণে বেশি লাভের আশায় জাল নোটের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। আরিফের কাছ থেকে জাল টাকা সংগ্রহ করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করত।
জাল নোট তৈরি ও বিক্রির ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র্যাব)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. আরিফ(৩০) ও মো. আশরাফ।
গত সোমবার রাতে গ্রেফতারের পর আরিফ ও আশরাফের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করে র্যাব-২ এর সদস্যরা।
এব্যাপারে র্যাব-২ এর সিও লে: কর্ণেল কে এম আজাদ বলেন, পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে ১০০০ টাকার ১০০টি নোট বা এক লাখ টাকার একটি বান্ডিল ৩৫-৪৫ হাজার টাকায় কিনতেন তাঁরা। সে হিসেবে প্রতিটি ১০০০ টাকার নোটের দাম পড়ে গড়ে সাড়ে তিন শ’ থেকে সাড়ে চার শ’ টাকা।
তিনি বলেন, এই টাকা আবার যখন খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য পাঠানো হয় তখন এর দাম পড়ে ১০০টি ১০০০ টাকার নোটের বান্ডিল প্রতি ৬০-৭০ হাজার টাকায়। সে হিসেবে ১০০০ টাকার একটি নোট বিক্রি হয় ৬০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায়।
ইতোপূর্বে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ১০০০ টাকার জাল নোট ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হতো। এখন সম্ভবত: বাজারে চাহিদা বেশি সে কারণে জাল নোট হওয়া স্বত্ত্বেও বেশি দামে কিনছেন খুচরা বিক্রেতারা। বিভিন্ন সময় জালনোট তৈরি ও বিক্রির সাথে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এসব তথ্য জানা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জেইউ/এএইচ





