রাজধানীতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও ভ্যাকসিন বিক্রির অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ জনকে দু'বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ সময় পোল্ট্রি ও ডেইরির মেয়াদোত্তীর্ণ বিপুল পরিমাণের ওষুধ ও ভ্যাকসিন জব্দ করা হয়।
মোড়কের গায়ে লেখা, মেয়াদ শেষ হবে ২০১২ সালে। কিন্তু সেই ভেকসিন পাইকারি হারে বিক্রি করতো অ্যাডভান্স এনিমেল সায়েন্স নামের কোম্পানিটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেয়াদহীন এসব ওষুধ ও ভ্যাকসিন শুধু পশুরই ক্ষতি করছে না, গরু ও মুরগির মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
মানুষের চোখ ফাঁকি দিতে মেয়াদহীন ওষুধগুলো রাখা হতো তেজগাঁওয়ের একটি হিমাগারে। বাজারে ছাড়ার আগে ফকিরাপুলের এই অফিসে এনে লাগানো হতো নতুন মেয়াদের নতুন মোড়ক।
র্যাব বলছে, মেয়াদহীন যেকোনো ওষুধই বিষ, তাই এসব ভেকসিন উপকারের বদলে ক্ষতি করতো গবাদীপশুর।
ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. এমদাদুল হক তালুকদার বলেন, একটা ডেট থাকে। সেই ডেট পার হয়ে যাওয়ার পর ওই ওষুধে কোনো কাজ করবে না; বিষাক্ত হয়ে যাবে। সেই পয়জনটাই গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছে। আর ফুডচেইনের মাধ্যমে তা মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ওষুধ আমদানিতে অনুমতি নিতে হয় সরকারের। কিন্তু অ্যাডভান্স এনিমেল অনুমতির কোনো তোয়াক্কা তো করেইনি; উল্টো অনুমতির নকল সিল লাগিয়েছে মোড়কে।
সারোয়ার ইমরান র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে বলেন, তারা যে অপরাধগুলি করেছে তা মারাত্মক। ২০১৩ এবং ২০১৩ সালে যে ভ্যাকসিন এবং ওষুধগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেগুলো তারা নতুন মোড়কে এখন পর্যন্ত বিক্রি করছে।
একই সাথে তারা সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানির ওষুধ বিক্রি করছে। এসব অভিযোগে কোম্পানিটিকে জরিমানা ও ৬ কর্মকর্তাকে কারাদণ্ড দিয়েছে র্যাবের আদালত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি গরুর দুধে যে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে সেটির একটি কারণ হতে পারে এসব মেয়াদহীন ওষুধ।
এএস





