জ্যাকসন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গৌতম ঘোষের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও বিদেশে অর্থ পাচারের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন সংস্থায় নোটিশ পাঠিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


জানা যায়,সোমবার দুদকের সহকারী পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন তথ্য উপাত্ত চেয়ে বিভিন্ন সংস্থায় নোটিশ পাঠান।


এর আগে গত ২২ মার্চের পাঠানো নোটিশে গৌতম ঘোষকে ২৯ মার্চ দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল কিন্তু তিনি আসেননি।


দুদক সূত্র জানায়, দুদক চলতি মার্চ মাসেই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।
অভিযোগ রয়েছে, জ্যাকসনের সিইও গৌতম ঘোষ অবৈধভাবে টুরিষ্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে ৮ জুন ২০১৪ থেকে ৩০- জুন ২০১৪ পর্যন্ত কাজ করার জন্য অবৈধভাবে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা বেতন গ্রহণ করে।


তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এর এ/সি নং-০১-১১৪৬৫৩২-০১, চেক নং - ১২১৮৫৩৭ এর মাধ্যমে তার বেতন নেয়। তিনি বৈদেশিক মুদ্রা আইন, ইমিগ্রেশন ল এবং ভিসা স্ট্যাটাস অপব্যবহার ও লঙ্ঘন করেছেন।


জানা যায়, তিনি এবং সিমবা ফ্যাশন লিমিটেডের এমডি নবনীত ভগৎ এর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে ৮৭ হাজার ইউএস ডলার দিয়ে কমিন্স ডিজেল জেনারেটর বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর গৌতম ঘোষ দু'টি জেনারেটর বিক্রির ব্যাপারে কনফারমেশন নবনীত ভগৎকে কনফারমেশন দেন। যার মূল্য ৮৭ হাজার ইউএস ডলার।


কিন্তু মেসার্স জ্যাকসন ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেড ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর এর নামে মাত্র একটি জেনারেটর ইস্যু করে। যার দাম দেখানো হয় ৮৩ হাজার ইউ এস ডলার। যার মাধ্যমে আনুমানিক ২৮ হাজার ইউএস ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করা হয়।


জানা যায়, মেসার্স জ্যাকসন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড তার বৈদেশিক মালিক শেয়ার হোল্ডার সিঙ্গাপুর এর কোম্পানী মেসার্স জ্যাকসন ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেডের পক্ষে সবসময় কমিন্স ডিজেল জেনারেটর মডেল, সি ৫৫০ডি. ৫১ হাজার- ৫৫ হাজার ইউএস ডলার মূল্যে বিক্রি করে থাকে।

জানা যায়, জ্যাকসন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের অফিস ৮৭ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ বারিধারা ঢাকা। বিদেশী মালিকানাধীন এবং বাংলাদেশ জয়েন্ট স্টক রেজিষ্ট্রার এন্ড ফার্মস এ নিবন্ধিত একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।


বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতির শর্ত হিসাবে অনিবাদী প্রিন্সিপালের পক্ষে কোন ধরনের ইন্ডেট ইস্যু করতে পারবে না এবং হস্তান্তর করতে পারবে না। কিন্তু জ্যাকসন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, সুকৌশলে তাদের ঢাকা অফিস থেকে প্রোফর্মা ইনভয়েস ইস্যু করে এ যাবৎকাল আনুমানিক ৩০-৩৫ মিলিয়ন ডলার এর ব্যবসা করেছে।


আনুমানিক ৬-৭ মিলিয়ন ডলার ব্যবসায় মুনাফা অর্জন করেছে। কিন্তু মুনাফার বৈদেশিক মুদ্রা ইউএস ডলার বাংলাদেশে ফেরত আনেনি। এরমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের অপরাধ করেছে। দুদক সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তিন দফা নোটিশ পাঠিয়েও গৌতম ঘোষকে দুদকে আনতে পারেননি অনুসন্ধানী কর্মকর্তা।
একে