গোটা বইমেলা এলাকা সিসি টিভির আওতায়; মহানগর পুলিশের এমন ঘোষণা সংবলিত ব্যানার টাঙানো আছে বিভিন্ন জায়গায়।

শাহবাগ থানার কন্ট্রোল রুমে; রূপসী বাংলা হোটেল থেকে শুরু করে শাহবাগ মোড় হয়ে চারুকলা, ছবির হাঁট এবং নজরুলের কবর পর্যন্ত সিসি টিভি আছে। কোথায় কি হচ্ছে থানায় বসেই দেখা যায়। ইউনিফর্ম পরিহিত এবং সাদা পোশাকের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অভাব নেই ওই এলাকায় এরপরও!!! বিপর্যস্ত হয়ে যাচ্ছি!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ধারণা এটা মৌলবাদীদের কাজ..। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর আর শাহবাগ থানার ওসিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কি আরো তথ্য পাওয়া যাবে?

মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর ফেসবুক পাতায় এই স্ট্যাটাস দেন শিমুল বাশার নামে গণমাধ্যমের এক কর্মী। নগরজুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আরও অনেকে।

এদিকে, সন্ত্রাসীদের হাত থেকে অভিজিতকে রক্ষা করা তো দূরের কথা হত্যাকাণ্ডের কোনো কিনারাই বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

যদিও হত্যার ঘটনায় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীকে দায়ী করা হচ্ছে। অভিজিতের প্রগতিশীল লেখালেখির কারণে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এর জের ধরেই তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দা, ব্লগার ও পরিবারের সদস্যরা।

তবে, শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান জানান, হামলার কোনো কারণ জানা যায়নি এবং জড়িতদেরও চিহ্নিত করা যায়নি। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে পুলিশ চেষ্টা করছে।

ডিএমপির রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শেখ মারুফ হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের পর বলা যাবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আমরা রক্তমাখা দুটি চাপাতি ও একটি স্কুলব্যাগ উদ্ধার করেছি। পুলিশের পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নেমেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এম আমজাদ আলী বলেন, ‘বইমেলা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলটি ছিল ফাঁকা। হত্যাকারীরা ফাঁকা স্থানটিকেই বেছে নিয়েছে। পরিবারের কাছ থেকে জেনেছি, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে লেখক দম্পতি অভিজিৎ রায় ও রাফিদা আহমেদ বন্যাকে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক একেএম রিয়াজ মোর্শেদ জানিয়েছেন, অভিজিৎ ও তার স্ত্রীর মাথায় চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অভিজিতের মাথায় চাপাতি দিয়ে অন্তত ১০টি কোপ দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রীর মাথায় তিনটি কোপ দেওয়া হয়েছে। তার বাম হাতের বুড়ো আঙুলে কোপ লাগার ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দেখা যায়, টিএসসির সামনে রাজু ভাস্কর্য থেকে শাহবাগ যাওয়ার পথে রাস্তার পূর্ব পাশের ফুটপাতে অনেকখানি জায়গাজুড়ে রক্ত জমাট হয়ে আছে। রাস্তার মধ্যে রয়েছে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। অভিজিতের মাথায় বেশ কয়েকটি গভীর আঘাতের চিহ্ন। পেছন থেকে আঘাত করা হয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে। আঘাতের ফলে রক্তের সঙ্গে হালকা মগজ বের হয়ে গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে অভিজিৎ রায় মারা যান। গুরুতর আহত বন্যা সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

হাসপাতালে ভর্তির পর বন্যা জানান, তারা এক সপ্তাহ আগে আমেরিকা থেকে ঢাকায় বেড়াতে এসে এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন। বৃহস্পতিবার বইমেলায় ঘোরা শেষে রাত ৯টার দিকে টিএসসিতে পৌঁছলে কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর জখম হন। তবে কে বা কারা কী কারণে এ হামলা চালিয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানাতে পারেননি।

লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় (৩৮) হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন তার বাবা শিক্ষাবিদ ড. অজয় রায়। অজ্ঞাতসংখ্যক আসামী করে শুক্রবার সকালে শাহবাগ থানায় তিনি এ মামলা দায়ের করেন।

জেএ