কথা কাটাকাটির জেরে গ্রীনলাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে আগামী ১০ তারিখের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপুরন দেয়ারজন্য মোখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।  অন্যথায় ১১ তারিখ থেকে গ্রীনলাইন পরিবহনের কোন টিকেট বিক্রি করতেও নিষেধ করা হয়েছে।  

আজ (০৪ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ মোখিকভাবে এই নির্দেশনা দেন।  

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা। গ্রিনলাইনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. অজিউল্লাহ।

এর আগে সকালেযাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকার ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় বিষয়টি আদালতকে জানান তার আইনজীবী।  এসময় সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পরও ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। পরে আদালত আজ বেলা ২টায় গ্রিন লাইনের ব্যবস্থাপককে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

হাইকোর্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আদেশ মানতে না চাইলে ওই পরিবহন কোম্পানির মালিককে গ্রেফতারের ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া প্রয়োজনে গ্রিন লাইনের সব গাড়ি জব্দ করে নিলামে তুলে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে বলেও আদালত জানিয়ে দেন।

পরে দুপুর ২টায় গ্রিন লাইনের ম্যানেজার আদালতে হাজির হলে আগামী ১০ এপ্রিল মালিককে সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে পরদিন ১১ এপ্রিল থেকে এই বাস সার্ভিসের সব টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখতে বলা হয়।

আরও পড়ুন: যানজটে নাজেহাল নগরজীবন: ব্যস্ত সড়কে ড্রাইভিং সিটেই ঘুমান বাস ড্রাইভার! 

এর আগে গত ১২ মার্চ রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথাকাটাকাটির জেরে গ্রীনলাইন পরিবহনের বাসচালক প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৩) ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেন। এতে রাসেলের দেহ থেকে বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর অস্ত্রোপচার করে তার বাম পা কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনায় রাসেলের বড় ভাই আরিফ সরকার বাসচালক কবির মিয়ার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় ওইদিনই মামলা করেন।

পা হারানো রাসেলের বাবার নাম শফিকুল ইসলাম, গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী। ঢাকার আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় তার বাসা। ওই দুর্ঘটনার পর সরকারি দলের সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি আইনজীবী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি গত বছরের ১৪ মে হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণ চেয়ে একটি রিট আবেদন করেন।

রিটের শুনানিতে চলতি বছরের ৬ মার্চ রাসেল আদালতকে বলেছিলেন, পা হারানোর পর এখন পর্যন্ত গ্রীনলাইন কর্তৃপক্ষ তাকে একটি টাকাও দেয়নি। খোঁজখবর নেয়নি, চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করেনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে রাসেলকে কেন এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

এমবি