ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) অর্গানোগ্রাম ছাড়াই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি এবং স্থায়ী লোক নিয়োগের নামে চলছে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য। আর এ বাণিজ্যের সুযোগ করে দিয়েছেন বর্তমান প্রশাসক ফারুক জলিল। তার সঙ্গে রয়েছে ডিএনসিসির সচিব আবু সাইদ শেখ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মেজবাহ উল করিম এবং সহ সচিব সাজেদা সুলতানা শীমাসহ অর্ধডজন কর্মকর্তা।
এদিকে আজ সোমবার ডিএনসিসির ১৭ জন হেডক্লার্ক যৌর্থভাবে কর্তৃপক্ষের বেআইনী ও পক্ষপাতিত্বমূলক পদোন্নতির প্রতিবাদে প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। এ উকিল নোটিশটি পাঠান অঞ্চল-৫ এর কামাল পাটোয়ারী রেজার গংদের পক্ষে ব্যারিস্টার শাহ জাদা আল আমিন। আর এ উকিল নোটিশের পর ডিএনসিসির কর্মকর্তা- কর্মচারিদের মাঝে উদ্ভেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।
ডিএনসিসির সূত্র মতে, ২০১১ সালে ২৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিন সিটি করপোরেশনে বিভক্ত করা হয়। একই সঙ্গে এ সিটি করপোরেশনের আগের অর্গানোগ্রাম ও বিধি বিলুপ্ত হয়ে যায়। জাতীয় সংসদে বিল পাসের সময় শুধুমাত্র ২ সিটিতে ২ প্রশাসকের নিয়োগ, বেতন ভাতার বিষয়ে অনুমোদন দেয়া হয়। এর বাইরে নতুন নিয়োগ এবং পদোন্নতির আইনগত কোনো বৈধতা নেই।
সূত্র মতে, আগামী ১৭ সেপ্টম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাছাই কমিটি-১ কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বৈঠক আহবান করা হয়েছে। ওই বৈঠকে কমপক্ষে ১৫ জন প্রকৌশলী, রাজস্ব বিভাগের ডিসিআরও, টিও, ডিটিও, পদ মর্যাদার কমপক্ষে ১৬ জন, পরিবহণ বিভাগের সহকারি ম্যানেজার থেকে ম্যানেজারসহ একাধিক কর্মকর্তাকে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত রয়েছে। আর প্রতিটি পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭ লাখ টাকা থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে।
সূত্রমতে, অর্গানোগ্রাম ছাড়াই শুধুমাত্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের দোহাই দিয়ে বেআইনী ভাবে ঢাকা উত্তরের প্রশাসক জন প্রতি ৩ থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ৬৮ জন গাড়িচালক, ৬ জন মেকানিক কর্মচারি ও ৬ জন ভলকানিং কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর গুলশান ইউর্থ ক্লাব মাঠে চাকরি প্রার্থীদের ফিল্ড টেস্ট ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে। এর আগেও ২ দফায় ১৪৫ জন ক্লিনার ও শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়। এদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় যাই হোক নগদ টাকা এবং কোন স্যারের তালিকায় কার নাম থাকবে সে প্রতিযোগিতায় নেমেছে চাকরি প্রার্থীরা। তবে সর্বশেষ খবরে জনা যায় ১৯ সেপ্টেম্বরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
এব্যাপারে ঢাকা উত্তরের প্রশাসক ফারুক জলিল গতকাল সোমবার বিকেলে মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, আসলে বিষয়টি নিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলা ঠিক নয়। আপনি অফিসে আসেন কথা হবে। তা ছাড়া অফিসে আসলে আরো অনেকে থাকবে তা হলে হয়তো আপনার অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব হবে।
ডিএনসিসির সচিব আবু সাইদ শেখ সাংবাদিকদের বলেন, এব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঢাকা, একে, ১৫ সেপ্টেম্বর. টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ





