মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম আমিনুল হকের আদালতে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকি এ আবেদন করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশনে বিকেল সাড়ে ৪টায় মিনিটে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে বলা হয় এত লক্ষ শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’

তিনি বক্তব্যে আরও বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হত না।’

অন্যদিকে মামলার অপর আসামি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধের মতো মারা গেছে। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন ভাতা খেয়েছেন তারা নির্বোধের মতো মারা গেলেন? আর আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের কবরে ফুল দিই আবার না গেলে পাপ হয়। তারা যদি বুদ্ধিমান হন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকলেন কীভাবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা পাকিস্তানের বেতন খাইল তারা হয়ে গেল মুক্তিযোদ্ধা, আর যারা না খেয়ে পালিয়ে বেড়াল তারা হয়ে গেল রাজাকার।’

আসামিদের এ কটূক্তিকর বক্তব্য পর দিন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রচার হওয়ায় বাদির ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে আদালতে নালিশি মামলার আবেদন করেন তিনি।

এআই