ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, নববর্ষে টিএসসি এলাকায় নারী নির্যাতনের ঘটনাটি মিডিয়াতে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, তা ঠিক কি-না তা অনুসন্ধানেই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আমাদের কাছে যে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে তাতে মিডিয়ার প্রচার করা সংবাদের সঙ্গে মেলে না।

রোববার বিকাল সাড়ে ৫টায় ডিএমপি’র সদর দফতরে এফিলিয়েন গ্রুপের পক্ষ থেকে তেজগাঁও থানাকে একটি টহল গাড়ি প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, অনেক পত্রিকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং থার্টিফার্স্ট নাইটের ঘটনার ছবি পহেলা বৈশাখের বলেও প্রচার করেছে। ওই দিনের সিসিটিভির ক্যামেরায় ধরা ভিডিও ফুটেজে মিডিয়ায় প্রচার করা প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলে না। একটি মহল এটিকে পুঁজি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

অনুষ্ঠানে ডিএমপি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের কাছে যে ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, তাতে দেখা যায়, অনেক লোকের ভিড়ে কয়েকজন নারী আটকা পড়েন। এমনকি একজন পড়েও যান। এখন বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই নারীদের উত্ত্যক্ত করেছে কি-না। সেটিই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আর এ কারণে মামলাও করা হয়েছে।

কমিশনার বলেন, ঘটনাস্থলে হাজার হাজার মানুষের কাছে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন থাকলেও কেউ কোনো ছবি তোলেননি। কেউ আমাদের কাছে কোনো ছবি দিতে পারেননি।

তিনি বলেন, যে কয়জন ওই নারীকে উদ্ধার করেছেন তারা ওই নারীর ঠিকানা বলতে পারেন না। এমনকি তারা কোনো ছবিও ধারণ করেননি। এছাড়াও কারা এ কাজ করেছে, সে ব্যাপারেও তারা কিছু বলতে পারেননি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোকেয়া হল কিংবা ঢাবির কোনো শিক্ষার্থী পুলিশের কাছে কোন এ ধরনের কোন তথ্য দেননি। এছাড়াও পুরো রাজধানীকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য ২০০ কোটি টাকার একটি বাজেট হচ্ছে। অতিদ্রুত পুরো রাজধানীকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। যাতে করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করা সহজ হয়।

তিনি বলেন, ওখানে একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা মামলা নিয়েছি। এ ঘটনার অনুসন্ধানে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিমও গঠন করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।

আমরা আহবান জানাই, কারও কাছে যদি এ বিষয়ে তথ্য থেকে থাকে তাহলে আমাদেরকে সহযোগিতা করুন। আমরা অপরাধীদের গ্রেফতারে কাজ করে যাচ্ছি।

নববর্ষের দিন বিকালে টিএসসি এলাকায় কয়েকজন নারীকে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রচার পায়। সারাদেশে এ ঘটনা আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় পরদিন শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।

পরে এ ঘটনার অনুসন্ধানে ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এ্যান্ড অপারেশন) ইব্রাহিম ফাতেমিকে প্রধান করে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যুগ্ন কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান, গোয়েন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর।

এদিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

অতিরিক্ত কমিশনার ইব্রাহিম ফাতেমি বলেন, যারাই এ ধরনের ঘটনা ঘটাক, আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

তবে ঢাবির প্রক্টর আমজাদ হোসেন বলেন, নিন্দনীয় এ কাজ বহিরাগতরাই করেছে। পুলিশের সহযোগিতায় তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এসএইচ, এএইচ