বাংলাদেশ ও মায়ানমারে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মুজাহিদ সংগ্রহের কাজ করে আসছে আইএসআইএস । যারা জিহাদে উদ্বুদ্ধ তাদেরকে শনাক্ত করে লেবানন ও সিরিয়ায় জিহাদে পাঠানোর চেষ্টা করে আসছে।

সোমবার দুপুর ১২টায় মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (মিডিয়া) মনিরুল ইসলাম।

এর আগে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস ও নুসরা ব্রিগেডের মুজাহিদ সংগ্রহ করার অভিযোগে সামিয়ুন রহমান ওরফে ইবনে হামদানকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ(ডিবি)।

রোববার দিনগত রাত সোয়া ১১টার দিকে তাকে কমলাপুর রেল স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিসি (পশ্চিম) শেখ নাজমুল আলম পিপিএম (বার) এর নিদের্শনায়, এডিসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পিপিএম এর তত্বাবধানে, সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম নাজমুল হক ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মহরম আলীর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইএস ও নুসরার জঙ্গি তৎপরতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

গ্রেফতারকৃত সামিয়ুন রহমান ওরফে ইবনে হামদান সিরিয়া ও লেবাননে স্বশস্ত্র জেহাদী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইএস ও নুসরা ব্রিগেডের সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যে বাংলাদেশে আসে।

সম্প্রতি সে আল কায়েদা নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি কর্তৃক ঘোষিত আকিস (AQIS)এর বাংলাদেশ ও মায়ানমারে জঙ্গি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মো. আসিফ আদনান ওরফে জুলকারনাইন ও ফজলে এলাহি তানজিলকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তারা জিজ্ঞাসাবাদে ব্রিটিশ নাগরিক সামিয়ুন রহমানের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে।

সে তথ্যের ভিত্তিতে সামিয়ুনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৬টি মোবাইল, ১টি ব্রিটিশ পাসপোর্ট ও এটিএম কার্ড, ব্যাংক চেক উদ্ধার করা হয়।

এব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (মিডিয়া) মনিরুল ইসলাম বলেন, সামিয়ুন গত সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সিরিয়ার নুসরা ব্রিগেডের সদস্য জিহাদী কার্যক্রম চালায়।

সে জঙ্গি কার্যক্রেমে অংশ নেয়ার জন্য তার এক বন্ধুসহ ব্রিটেন থেকে তুরস্ক হয়ে সিরিয়া যায়। সে ইতোমধ্যে মরক্কো ও মৌরিতানিয়া ভ্রমন করে।

তিনি জানান, সামিয়ুন পিস টিভির উপস্থাপক এনথনির ফেইসবুক ফ্যান পেইজের সূত্র ধরে বাংলাদেশী জিহাদে উদ্বুদ্ধ লোকজনদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে আসছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে সামিয়ুন বাংলাদেশে আসে। এর আগে গ্রেফতারকৃত আসিফ আদনান, ফজলে এলাহী তানজিল, সেকান্দার আলী নকি ও তাসনিম ওরফে নাহিদের মধ্যে আন্ত:যোগাযোগ ছিল।

তারা একটি জেহাদী টিম গঠন করে সিরিয়া ও লেবানেনে পাঠানো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সিরিয়ায় জেহাদী কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশ ও মায়ানমারে AQIS (Al Qaidan in Indian Sub-Continent) এর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক স্থাপন করা।

বাংলাদেশে ইসলামী শরিয়া ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রবর্তন করাও তাদের উদ্দেশ্য ছিল। আসামী ইব্নে হামদান-এর নেতৃত্বেই সশস্ত্র জিহাদের জন্য তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন বলে অন্যরা স্বীকার করেন।

আসামীগণ পরস্পর যোগসাজসে একে অপরের সহায়তায় নিষিদ্ধ সংগঠন আল কায়দার নেতা জাওয়াহিরির অতি সম্প্রতি প্রদত্ত বক্তব্যে প্ররোচিত হয়ে বাংলাদেশে আল-কায়দার জঙ্গী নেটওয়ার্ক তৈরী করে নানা রকম নাশকতা মূলক জঙ্গী কর্মকান্ডের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছিল।

মনিরুল ইসলাম আরও জানান, সামিয়ুন এক ধর্নাঢ্য পরিবারের সন্তান। তার জন্ম ব্রিটেনে হলেও তার বাবা আব্দুল্লাহ বাংলাদেশি। তারা স্বপরিবারে ব্রিটেনে থাকেন।

গত পাচ বছর আগে সামিয়ুন বলা যায় বাউন্ডুলে ছিল। সে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, বাউন্ডুলে স্বভাবের কারণে সে কারাদন্ড ভোগে করে। তার দাবি এরপর সে আলোর সন্ধান পান। খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জেহাদী কার্যক্রমে অংশ নেন।

সামিয়ুন স্বশস্ত্র যুদ্ধে উদ্বুব্ধ। সরাসরি যুদ্ধের পক্ষে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

ঢাকা, জেইউ, ২৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর