পুলিশ দম্পত্তি হত্যা মামলায় জেল হাজতে আটক তাদেরই মেয়ে ঐশী রহমানসহ তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জহুরুল হক আদারতে স্বাক্ষ্য প্রদান করেন মামলার বাদি মো. মশিহুর রহমান রুবেল।

এ মামলার অভিযুক্ত অন্য ২ জন হলেন- তার বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি (২৭), মিজানুর রহমান রনি (২৫)। ঐশী রহমান বাবা মাকে খুন করেননি বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী ঐশীর চাচা মো. মশিহুর রহমান রুবেল।

আমার ভাই মাহফুজুর রহমান পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (পলিটিক্যাল শাখা) কর্মরত ছিলেন। কোনো দুষ্কৃতিকারীরা তাদের খুন করে থাকতে পারে। স্বাক্ষ্য গ্রহণের সময় জেল হাজত থেকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বেলা ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। ঐশীর আইনজীবীর মাহবুবুর রহমান রানার করা এক প্রশ্নের জবাবে মশিহুর রহমান রুবেল বলেন, ঐশী তার বাবা-মাকে খুন করেনি। বাদীর আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১১ই আগস্ট দিন ধার্য করেন আদালত।

এছাড়া একই ঘটনায় পৃথক মামলায় অভিযুক্ত ঐশীদের বাসার শিশু গৃহকর্মী সুমির মামলাটি বিচারের জন্য প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আসামি গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মামলাটি শিশু আদালতে বিচার চলছে।

গত ২০ মে সুমির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন শিশু আদালতের বিচারক জাকিয়া পারভিন। এরপরই তিনি সুমিকে জামিন দেন। গত ১ জুন গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্র থেকে মা সালমা বেগমের জিম্মায় জামিনে মুক্তি পেয়েছে সুমি।

গত ৬ই মে ঐশীসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ঐদিন আসামিদের অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

গত বছরের ১৬ই আগষ্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর চামেলীবাগের বাসা নম্বর ২, বিল্ডিং-চামেলী, ৬ তলা, ফ্ল্যাট বি-৫ নিজ বাসা থেকে মাহফুজুর রহমান ও স্ত্রী স্বপ্না রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মা-বাবা খুন হবার পর রহস্যজনক ভাবে পালিয়ে যায় ঐশী। এ ঘটনায় ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোটভাই মো. মশিহুর রহমান রুবেল পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঐ দিন (১৭আগষ্ট) দুপুর দেড়টার দিকে পল্টন থানা এসে সে নিজের পরিচয় দিয়ে স্বেচ্ছায় কাজের মেয়ে সুমিসহ ধরা দেয় ঐশী।

ঢাকা, ৮ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এনএস // কেএইচ