ভুয়া ২ দুদক কর্মকর্তা মাহমুদুর রশিদ ও কাউছার আহমেদকে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং চাঁদাবাজি মামলার রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার প্রতারণা এবং চাঁদাবাজির মামলার তদন্তকারী ও দুদকের সহকারী পরিচালক (সিনিয়র এএসপি) এস এম রফিকুল ইসলাম দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ওই ২ প্রতারকে পুলিশের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জানা যায়, ৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা তেজগাঁও থানায় চাঁদাবাজির মামলার আসামি ভুয়া দুদক কর্মকর্তা মাহমুদুর রশিদ ও কাউছার আহমেদ। ৫ ফেব্রুয়ারি তাদেরকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে ৩দিনের রিমান্ডে আনে দুদক। আর ওই ৩ দিনের রিমান্ডের প্রথম দিন (আজ) বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নাখালপাড়া থেকে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ওই চক্র ভুয়া দুদক কর্মকর্তা মাহমুদুর রশিদ ও কাউছার আহমেদকে আটক করে দুদক। পরে ওই দিনই বিকেলে তেজগাঁও থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে দুদক।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএ'র মৌলভীবাজার সার্কেলের সহকারী পরিচালক এনায়েত হোসেন মন্টুর কাছে মোবাইলে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা নিজেদেরকে দুদকের উপ পরিচালক জাহিদুল হকের পরিচয় দেয়।
বিআরটিএর ওই কর্মকর্তা দুদকে অভিযোগ করেন তার কাছে ০১৮১৯-২৪৭২৩৮ নম্বর মোবাইল ফোনে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। অভিযুক্তদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলা হয়।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোবাইল নম্বর ও মোবাইল সেটের আইএমইআইয়ের নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ার ওই বাড়ি থেকে আটক করে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে আরো বেরিয়ে আসছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে দুদকের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও পদবী ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে চাঁদা দাবি করে আসছে।
এ চক্রটি এর আগেও এক প্রকৌশলীর নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করেন। আটককৃতরা দুদক কর্মকর্তার নিকট দায় স্বীকার করেছেন। দুদক অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ৪টি মোবাইল সেট, ৩২টি সিম, বিভিন্ন পদের সীল ও প্যাড উদ্ধার করে।
একে





