সাবেক প্রধান বিচারপতি  মো.  মোজাম্মেল  হোসেনকে বিদায়ী সংবর্ধনা  দেবে না সুপ্রিম  কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা।

তবে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সংবর্ধনা  দেবে  বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট থন্দকার মাহবুব  হোসেন।

বুধবার সুপ্রিম  কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্দ্যেগে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা  শেষে  সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট থন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, সদ্য বিদায়ী সাবেক প্রধান বিচারপতি  মো. মোজাম্মেল  হোসেনকে সংবর্ধনা না দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি বলেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আদালত প্রাঙ্গণে বহিরাগতদের সন্ত্রাস এবং আইনজীবীদের উপর হামলা মামলা ও নির্যাতনের ব্যাপারে বিদায়ী প্রধান বিচারপতি কোনো পদক্ষেপ না  নেয়ায়  আইনজীবী সমিতির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিণত করার জন্য দায়ী প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন।

তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভার  রেজুলেশনে বলা হয়- মাসদার  হোসেন মামলার আলোকে  বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ  থেকে আলাদা করা হয়েছে। কিন্তু আজও নিন্ম আদালতগুলো নির্বাহী বিভাগের আওতামুক্ত হয়নি। বরং সেখানে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাব আরও প্রকট হয়েছে।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি  মোঃ  মোজাম্মেল  হোসেন সুপ্রীম  কোর্টকে স্বাধীন রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাজনৈতিক চিন্তা  চেতনার বিষয় মাথায়  রেখে বিচার কাজ করেছেন।

আইনজীবী নেতা খন্দকার মাহবুব হোসেন  বলেন,  হাইকোর্টে বেঞ্চ গঠনের ব্যাপারে সিনিয়র বিচারপতিদের  কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে।  প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী  মোশন  বেঞ্চে বিজ্ঞ সিনিয়র বিচারপতিগণকে না দিয়ে জুনিয়র বিচারপতিদের  দেওয়া হয়েছে। ফলে মামলা  দ্রুত নিষ্পত্তির  ক্ষেত্রে বাধা  দেখা দিয়েছে।

খন্দকার মহবুব হোসেন বলেন, হাইকোর্টের অন্তবর্তী আদেশের বিরুদ্ধে সরকার কতৃক ঢালাও ভাবে আপিল করে  স্টে আদেশ পাওয়ার হাইকোর্টের কায্যক্রম অস্বাভাবিক ব্যহত হয়েছে।

তিনি বলেন, এম ইউ আহমেদকে তুচ্ছ ঘটনায় রাতের আধারে  গ্রেফতার করে জামিন  দেয় নাই। ফলে তার অকাল মৃত্যু হয়েছে।

২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সুপ্রীম  কোর্টে আইনজীবীদের উপর আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাউন্ড  বোমা নিক্ষেপ গরম পানি  ছোড়া এবং বহিরাগত আওয়ামী যুবলীগ সন্ত্রাসীদের নেতৃত্বে আইনজীবীদের  উপর হামলার বিষয়ে তিনি কোন কথা বলেননি এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

গত ৪৩ বছরের ইতিহাসে সুপ্রীম  কোর্ট বারের সভাপতি ও সম্পাদককে পুলিশ  গ্রেফতার হয়নি। কিন্তু সাবেক প্রধান বিচারপতি  মো.  মোজাম্মেলন  হোসেনের সময় বারের সভাপতি ও সম্পাদককে  গ্রেফতার হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি  কোন কথা বলেননি।

তিনি বলেন, তার সময়ে সর্বস্তরে দুর্নীতি এবং আইনজীবী ও  বেঞ্চ অফিসারদের মধ্যে ঘুষ  লেনদেন  বেড়েছে। তিনি আইনজীবী সমিতির সাথে কখনো  কোনো আলোচনা করেননি।

এসএইচ