বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় শিয়া মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের উপর গুলি বর্ষণের ঘটনায় মসজিদের মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন (৭০) নিহত ও তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শিবগঞ্জের আটমুল ইউনিয়নের হরিপুর বাসস্ট্যান্ড শিয়া মসজিদে বৃহস্পতিবার মাগরিব নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরিপুর বাসস্ট্যান্ড শিয়া মসজিদে মাগরিব ও এশার নামাজ একসাথে পড়া হয়। বৃহস্পতিবার মাগরিব নামাজের সময় নিয়মিত মুসল্লিদের সাথে ২০-২২ বছর বয়সী অপরিচিত তিন যুবক মসজিদে প্রবেশ করে। তাদের মাথায় টুপি এবং পরনে পায়জামা-পাঞ্জাবি ছিল।
মাগরিব নামাজ শেষে যখন মুসল্লিরা এশার নামাজের জন্য অপেক্ষা করছিল ঠিক সেই মুহূর্তে ওই তিন যুবক মুসল্লিদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে। গুলির শব্দ শুনে আশে পাশের লোকজন ছুটে এলে ওই তিন যুবক দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।
এসময় মসজিদের মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন (৭০)সহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর মোয়াজ্জেম হোসেন মারা যান।
গুলিবিদ্ধ অপর তিনজন হলেন- হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা আফতাব হোসেন (৪০), মাওলানা শাহিনুর ইসলাম (৩৫) ও আলাদীপুর গ্রামের আবু তাহের মিস্ত্রি (৫০)।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মসজিদটি ঘিরে রেখেছে। জড়িতদের ধরতে এলাকায় অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এটা দেশি-বিদেশি চক্রান্ত। যারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ হামলার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুব দক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় কারা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে, কেন ঘটিয়েছে, তার তদন্তে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে আইএস আছে, সেটা প্রমাণ করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সব ঘটনা একই গোষ্ঠী ঘটিয়েছে। তারা দেশের একেকটি জেলায় একেকবার নাশকতামূলক কার্যক্রম করছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সেটা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনা হয়। ঘটনাগুলো একের পর এক মেলালে বোঝা যাবে। তবে সরকারও বসে নেই, সবই বেরিয়ে আসছে।
স্থানীয় লোকজনের তথ্যমতে, গোলাগুলির শব্দ শুনে তাঁরা কয়েকজন মসজিদের দিকে দৌড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু গুলিবর্ষণকারীরা আগেই মসজিদে প্রবেশের মূল ফটকটি ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখায় তাঁরা ঢুকতে পারেননি। খুব দ্রুত ঘটনা ঘটিয়ে গুলিবর্ষণকারীরা মসজিদের সামনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।
কেবি





