জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব আবু মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ২০ কোটি টাকার একটি সরকারি বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিগগিরই এ বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর মৌজার নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৩ নম্বর সড়কের ৫৪ বি-২ নম্বও ১৮ শতক জমির উপর একতলা বাড়ির অবৈধ দখলদার সাবেক ওই আমলা।
গত জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চট্টগ্রামে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের একটি সরকারি বাড়ি আত্মসাতে চেষ্টার অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পত্রিকা প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানা যায়, স্বাধীনতার পর এ বাড়িটে খাস সম্পত্তিতে পরিণত হয়। বাংলাদেশ সরকার পিও নম্বর ১৬/১৯৭২ মূলে তা পরিত্যক্ত সম্পত্তি ঘোষণা করে এবং বাড়িটি সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। তবে অনেকপূর্বে সম্পত্তিটির মালিক ছিলেন আনু মিয়া নামের এক ব্যক্তি। এ আনু মিয়ার ওয়ারিশ মোহাম্মদ আলী, পাকিজা খাতুন ও আনোয়ারা বেগমকে দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করান সাবেক আমলা নরুল ইসলাম। তিনি সব মামলা চালানোসহ সম্পত্তির মূল্য ১৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করে মোহাম্মদ আলী গংয়ের সঙ্গে বায়না দলিল করেন (নম্বর ৪৩৭৬)। বর্তমানে মোহম্মদ আলীও জীবিত নেই।
জানা যায়, ওই বাড়িটি সরকারের আবাসন দপ্তরের চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) বিকল্প বাসভবন হিসেবে তালিকাভুক্ত। ১০ বছর আগে অবসরে যাওয়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব আবু মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ওই বাড়িটির দখল করে আছে। এমনকি নিজের নামে বাড়িটি লিখে নেয়ার উদ্দেশ্যে মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে পুলিশের সিআইডির শাখার তদন্ত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে।
পুলিশের (সিআইডি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিদর্শক বিদ্যুৎ কুমার বড়–য়ার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবু মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম চট্টগ্রাম সেনানিবাসে সিভিল অ্যাফেয়ার্স অফিসার (উপসচিব) পদে কর্মরত থাকাকালে আবেদন করে জেলা আবাসন বোর্ড থেকে এ বাড়িটি অস্থায়ী বরাদ্দ নেন। নুরুল ইসলাম ২০০২ সালের ১ নভেম্বর থেকে বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
তিনি ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি অবসরে যান। ওই বছরের ৯ আগস্ট তাকে বাড়ি ছাড়ার আদেশ দেয় জেলা আবাসন বোর্ড। কিন্তু তিনি বাড়িটি দখলে রেখেছেন এবং কোনো ভাড়াও সরকারকে দিচ্ছেন না।
এদিকে সাবেক আমলা নুরুল ইসলাম এ বাড়িটি সরকার অধিগ্রহণের আগের মালিকের ওয়ারিশদের চট্টগ্রাম সিএমএম আদালতে মামলা (নম্বর ৩১০/০৪) দায়ের করান। শুধু তাই নয়, তিনি বায়না দলিলও রেজিস্ট্রি করে নেন। কিন্তু নুরুল ইসলাম মামলার বাদীকে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক টাকা না দেয়ায় তার বিরুদ্ধের মামলা করে ওই বাদী।
গত ২৬ জুন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় সিআইডি। অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় একটি অনুলিপি পাঠায় সিআইডি।
ঢাকা, একে, ১০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





