দৈনিক সংবাদ-এর সাবেক বার্তা সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মন্টু নিহতের ঘটনায় করা মামলায় বাংলাদেশ বেভারেজকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

রোববার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

২০১০ সালের ১১ মে হাইকোর্ট এক রায়ে বাংলাদেশ বেভারেজকে দুই কোটি এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বেভারেজ আপিল বিভাগে আপিল করে। আপিলের ওপর শুনানি শেষে আজ আদালত আদেশ দেন।

আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বেভারেজের পক্ষে শেখ ফজলে নূর তাপস ও রওশন আক্তারের পক্ষে মো. খলিলুর রহমান মামলা পরিচালনা করেন।

আইনজীবী মো. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগ ক্ষতিপূরণের অর্থ পুনর্মূল্যায়ন সাপেক্ষে বাংলাদেশ বেভারেজের আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশ বেভারেজকে ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে হবে। তবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর জানা যাবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরের আনন্দ ভবনের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় সেভেনআপ, পেপসি কোলার পানীয় বোঝাই একটি ট্রাক মন্টুকে চাপা দেয়। মন্টুর মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাত পেলে স্থানীয়রা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ১৩ দিন হাসপাতালে থেকে ১৬ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

১৯৯১ সালের ১ জানুয়ারি মোজাম্মেল হোসেন মন্টুর স্ত্রী রওশন আক্তার বাদী হয়ে তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে সেভেনআপ পেপসি কোলার পরিবেশকের বাংলাদেশ বেভারেজের জেনারেল ম্যানেজার ও ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ২০ মার্চ ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালত এক রায়ে বাংলাদেশ বেভারেজ কোম্পানি (পেপসি কোলা) লিমিটেডকে সাড়ে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন। রায়ে ৩০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২০০৫ সালে হাইকোর্টে আপিল করে বাংলাদেশ বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এর ওপর শুনানি শেষে ২০১০ সালের ১১ মে রায় দেন আদালত। এই রায়ের পর ওই বছরই আপিল করে বাংলাদেশ বেভারেজ।

ঢাকা, কেএ, ২০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর