চট্টগ্রাম ওয়াসায় অবৈধভাবে লোক নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ,ঘুষ কেলেংকারিসহ বিভিন্ন দুনীতির অভিযোগে ৪ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ রোববার দুদকের উপ পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী সকাল ১০ টা থেকে বিকেল সোয়া ৪ টা পর্যন্ত সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে তাদেরকে জিজ্ঞসাবাদ করেন।

এ ৪ কর্মকর্তা হলেন; চট্টগ্রাম ওয়াসার সহকারি প্রকৌশলী বেগম ফারহানা জেরিন, সহকারি অ্যাকাউন্টেড বেগম আফসানা নুর, রাজস্ব কর্মকর্তা মীর হোসেন ও রাজস্ব কর্মকর্তা লিয়াকত আলী।

এদিকে আগামীকাল সোমবার দুদকে আসবেন চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-সচিব জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পাম্প চালক সঈন উদ্দিন, সহকারি পাম্প চালক মো. তারেক উদ্দিন চৌধুরী ও স্টোর কিপার একেএম সাইফুদ্দিন চৌধুরী।

গত ৭ মে যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনে জমা কৃত অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য জমা হয়। গত ২৬ মে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। গত ২৯ অক্টোবর দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীকে চট্টগ্রাম ওয়াসার ৮ কর্মকর্তাকে তলবি নোটিশ পাঠান।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে লোক নিয়োগ, পদোন্নতি বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের। আর লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজ এলাকার লোকজনকে প্রাধান্য দেয়া হয়।

শুধু তাই নয়,চট্টগ্রাম ওয়াসায় লোক নিয়োগে কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। ওয়াসায় রাউজান উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী ফারহানা জেবিন, স্টোরকিপার সাইফুদ্দিন চৌধুরী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল হাসানকে নিয়োগ দিয়েছেন। এদের কাছ থেকে তিনি মোটা অঙ্কের ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০১৩ সালের জুলাই মাসের নিয়োগ পরীক্ষায় উপ-সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর শ্যালক মো. শোয়াইব খানকে চট্টগ্রাম ওয়াসার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ছাড়াই রাজস্ব তত্ত্বাবধায়ক পদে নিয়োগের চেষ্টা করেন।

পরবর্তী সময়ে ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন মহলের দৃষ্টিগোচর হলে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করা হয়। আর বর্তমান শোয়াইব খান চট্টগ্রাম ওয়াসায় দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কর্মরত।

ওয়াসার বিক্রয় শাখার সহকারী পাম্প অপারেটর মো. তারেক উদ্দিনের মাধ্যমে উপ-সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ কর্মকর্তারা বিভিন্ন তদবিরের ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ করেন। কিন্ত মো. তারেক উদ্দিন একজন সহকারী পাম্প অপারেটর (এপিও) পদবির হয়েও বিক্রয় শাখায় কর্মরত আছেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার মোহরা অফিসে নিম্নমান সহকারী মো. হাসান প্রথমে অফিস পিয়ন পদে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে নিম্নমান সহকারী পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

জানা যায়, ১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম ওয়াসার সহকারী সচিব পদে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি উপ-সচিবের পদে পদোন্নতি পান। রাউজান উপজেলার কদলপুর গ্রামে তার বাড়ি।

একে/এসএইচ