মাদারীপুরে পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন জেলা প্রশাসনের প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো পুকুর ভরাট বন্ধ করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টে। একই সঙ্গে পুকুর ভরাট কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের স্থিতাবস্থা জারি করা হয়েছে।
আজ সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালত পুকুরের ভরাটকৃত অংশ ভরাটকারীদের নিজ খরচে অপসারণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না মর্মে রুল জারি করেছেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মাদারীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর পুকুরটি রক্ষায় হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল রিট আবেদন করেন।
ওই পুকুর ভরাট বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন যুক্ত করে এ রিট আবেদন করা হয়। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকার দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের এ পুকুর ভরাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে ওই পুকুরটি রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দও রোববার হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেছেন। গত ০৬ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক এবং অনলাইন পোর্টালে ‘জেলা প্রশাসনের পুকুর ভরাট করছে যুবলীগ–ছাত্রলীগ’শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিট দায়ের করেন।
আইনজীবী ইউনুস আলী জানান, দুইশত বছরের পুরাতন পুকুর ভরাট সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করার আমি জনস্বার্থে রিট দায়ের করেছি। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সরকার পরিবেশ সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিবে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীর নির্দেশে পুকুর ভরাট করে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২ ও ৪২ এর (১) রয়েছে জনগণের সম্পত্তি রক্ষা করার দ্বয়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকারের লোক সম্পত্তি রক্ষার বদলে ধ্বংস করছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়: যুবলীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা অবৈধভাবে পুকুরটি ভরাট করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভা থেকে পুকুরটি ভরাট বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এমবি





